স্বামী-স্ত্রীর পেঁয়াজ সমাচার

  সামিমা বেগম

কর্তাবাবু গিন্নিরে কয়, ‘পেঁয়াজ ছাড়া রাঁধো,

দেখছি তোমায় প্রতিদিনই পেঁয়াজ কেটে কাঁদো।

কান্নাকাটির নেই ঝামেলা এবার একটু হাসো,

বলবে জানি এবার তুমি পেঁপে নিয়ে আসো।’

 

গিন্নি বলে খুব চেঁচিয়ে, ‘পেঁপে দিয়ে রান্না!

গলা দিয়ে নামবে কীগো পাচ্ছে ভেবে কান্না।’

‘তুমি আমার লক্ষ্মী বধূ কান্নাকাটি রাখো,

আসছে বছর বুনবো পেঁয়াজ—সেই আশাতে থাকো।

দোহাই লাগে গিন্নি তোমায় বাপের বাড়ি গেলে,

পেঁয়াজ নিয়ে এসো এবার শাড়ি গয়না ফেলে।’

গুড়ুম করে বউয়ের মাথায় পড়ল যেন বাজ,

‘ছিঃ ছিঃ তুমি বলছ কী সব! লাগছে আমার লাজ।’

 

‘ভাবছি এবার অন্য উপায় বাসায় এলে কেউ,

মাংস-পোলাও ক্যামনে হবে পেঁয়াজে যে ঢেউ!

এখন থেকে তামরা সবাই কারো বাড়ি গেলে,

ব্যাগটি ভরে পেঁয়াজ এনো মন্ডা মিঠাই ফেলে।’

 

দাঁত কেলিয়ে গিন্নি বলে, ‘রাঁধব পেঁয়াজ দিয়ে,

ক্যামনে ঘুমাও প্রাণের পতি এত্ত বুদ্ধি নিয়ে।’

‘বুঝতে হবে জানতে হবে পতির কেরামতি,

সুখে থাকবে ভালো থাকবে পাল্টে ফেল গতি।’