নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ঘন কুয়াশায় দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১০ যাত্রী। গত শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে চর কিশোরগঞ্জ এলাকার ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চ দুটি হলো : শরীয়তপুর-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী এমভি মানিক-৪ ও ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে চলাচলকারী বোগদাদিয়া-১৩। নিহত মো. হুমায়ূন কবির বন্দুকসি (৩৫) এমভি মানিক-৪ এর যাত্রী ছিলেন। তিনি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা কান্দি গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বন্দুকসির ছেলে।
হুমায়ূন কবির ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গাড়িচালক ছিলেন। মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে দুই লঞ্চ থেকে ছিটকে পড়ে কয়েকজন নিখোঁজ হয় বলে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের ডুবুরি দল নদীতে অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানে কাউকে না মেলায় গতকাল শনিবার দুপুরে তল্লাশি অভিযান সমাপ্ত করা হয়। এদিকে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের মখোমুখি সংঘর্ষের কারণ উদ্ঘাটনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বোগদাদিয়া-১৩ লঞ্চের পেটের দিকে মেরে দেয় এমভি মানিক-৪। এতে মানিক লঞ্চের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। বোগদাদিয়া লঞ্চেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানিক-৪ লঞ্চের যাত্রী হুমায়ূন ঘটনাস্থলেই লঞ্চের ভেতরে চাপা পড়ে মারা যান। আহতদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনায় আহত নয় জনকে হাসপাতালে আনা হয়। সাতজন প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে চলে যায়। রোজিনা (৩০) ও সোনা মিয়া (৪৬) নামে দুজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোজিনার দুই পায়ে জখম হয়েছে। সোনা মিয়ার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুটি লঞ্চ জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মাহবুব-উল-আলম বলেন, কেন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।