চট্টগ্রামে হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। তবে অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগও। দু’দলই চট্টগ্রামের ১৬টি আসন ফিরে পেতে কিংবা ধরে রাখতে নানান কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে সব কয়টি আসনেই জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা। এর আগের নির্বাচনে চট্টগ্রামের আসন গুলোতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রায় সমানে সমানে প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। এবার এই আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও বিএনপি’র নুরুল আমিন প্রার্থী হয়েছেন। ফলে বিএনপি প্রার্থী আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৪ সালে অওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে বিএনপি স্থানীয় ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এবার ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বীতার স্বভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম-৩ (সীতাকুন্ড) আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগ গতবারে এমপি দিদারুল আলমকে এবং বিএনপি নতুন প্রার্থী ইসহাক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪(সন্দ্বীপ) আসনে ১৯৯১ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর বিএনপি প্রার্থী এখানে তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিন বারে এমপি বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা আসনটি পুনরুদ্ধারে কৌশলে এগুচ্ছেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নির্বাচিত হন। এবার আসনটি বিএনপি জোটের শরীক দল কল্যাণ পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে এই আসনে প্রথম বারের মতো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’ সরাসরি প্রার্থী ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ১৯৯১ সালে এনডিপি’র প্রার্থী হয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্বাচিত হন। আর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও আওয়ামী লীগ গত তিনবারের এমপিকে প্রার্থী দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়। এবারও আওয়ামী লীগ গত দু’বারে নির্বাচিত এমপি ড.হাসান মাহমুদকে প্রার্থী দিয়েছে। আর বিএনপি শরীক দল এলডিপিকে ছেড়ে দিয়েছে। ধানের শীষ নিয়ে নুরুল আলম প্রার্থী হয়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়াখালী) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের শরীক জাসদের মাইনুদ্দিন খান বাদল নির্বাচিত হন। এবার বিএনপি আবু সুফিয়ানকে প্রার্থী দিয়েছে। তিনি প্রথমবারের মত সংসদ নির্বাচন করছেন। আর মহাজোট গত ২ বারের এমপি মাইনুদ্দিন খান বাদলকে প্রার্থী দিয়েছে। এলাকায় দুই প্রার্থীর সমানে প্রচারণা চলছে।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়া উদ্দিন বাবলু নির্বাচিত হন। এবার আওয়ামী লীগ মহিবুল হাসান নওফেলকে এবং বিএনপি ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রার্থী দিয়েছে। দু’জনেই প্রথম বারের মতো এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে বিএনপি প্রার্থী বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তবে তাদের পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চলছে।
এদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ভেঙ্গে দু’টি সংসদীয় আসন করা হয়। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) নামের এই দুই আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। আসন এক থাকা অবস্থায় এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিরেন। এবার বিএনপি এনামুল হককে প্রার্থী দিয়েছে। তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। আর আওয়ামী লীগ গত দু’বারের এমপিকে শামসুল হক চৌধুরীকে প্রার্থী দিয়েছে। এলাকায় দুই প্রার্থী সমানে প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১৯৯১ , ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। এবারও আওয়ামী লীগ বর্তমান এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও বিএনপি সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজামকে প্রার্থী দিয়েছে। এলাকায় তাদের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। দু’জনেই প্রচারণা ও নির্বাচনে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী কর্ণেল (অব:) অলি আহমেদ বীরবিক্রম নির্বাচিত হন। আবার তিনি বিএনপি ছেড়ে নতুন দল এলডিপি গঠন করে ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হন। তিনি এবারও প্রার্থী হয়েছেন। আর বিএনপি জোটের শরীক এলডিপির হয়ে কর্ণেল (অব:) অলি আহমেদ বীরবিক্রম ‘ছাতা ’প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ১৯৯৬ সালে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভী জেতেন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সাবেক এমপি শামসুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছে। এলাকায় ও তাঁর পক্ষে প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)আসনে ১৯৯১ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হন। এবারও তিনি ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।