জুনায়েদ হাবীব
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দেখা মেলে ব্যতিক্রমী ডিজিটাল ‘জ্ঞানবাহন’ নামের একটি গাড়ির। ১৬ জন নারী-পুরুষের আর্থিক অনুদানে জ্ঞানবাহন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা, কৃষি, ও আইনি পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করে ডিজিটাল এই বাহনটি।
জ্ঞানবাহনে যত সুবিধা
তিন চাকার লেগুনায় তৈরি করা জ্ঞানবাহনটির ভেতরে রয়েছে এলইডি টিভি, ইন্টারনেট সংযোগ, ওয়াইফাই, ই-বুকস, ল্যাপটপ, ও প্রজেক্টর। জ্ঞানবাহনের চালককে বলা হয় জ্ঞানবাহক এবং তার সহকারীদের জ্ঞানবন্ধু। প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন স্বল্প ভাড়ায় স্কুল শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করা হয় চট্টগ্রামের নিদিষ্ট কিছু স্পটে।
জ্ঞানবাহনে যাত্রাকালীন সময়ে শিশুরা গাড়িটির এলইডি স্ক্রিনে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও দেখার পাশাপাশি শিক্ষামূলক গেম খেলারও সুবিধা পান। এছাড়াও অন্যান্য সময়ে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, হাতের কাজ, সাধারণ আইনসহ জ্ঞানবাহনের যাত্রীদের আনুষাঙ্গিক বিষয়ের সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রযুক্তিগত পরামর্শ সেবা প্রদান করেন জ্ঞানবাহনের সহকারী। জ্ঞানবাহনের অ্যাডুকেশন কো-অর্ডিনেটর আমেনা শাহীন জানান, প্রতি সপ্তাহের ৫ দিন যাত্রী বহন করে আর্থিক উপার্জন করে জ্ঞানবাহনের চালক ও সহকারীর ভাতা প্রদান করা হয়। আর বাকি ২ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে জ্ঞানবাহনের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চা আড্ডার আয়োজন করে গ্রামের কৃষিনির্ভর মানুষদের কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ সেবাসহ বড়পর্দায় শিক্ষামূলক ভিডিও দেখানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের সাবেক অধ্যাপক ই-লার্নিং জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর বদরুল হুদা খান দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যাধুনিক সেবা পৌঁছে দিতে জ্ঞানবাহন নামের ভ্রাম্যমাণ ডিজিটাল এ প্রকল্পটির চিন্তা করেন। এরপর তিনি দেশ ও বিদেশের অন্যান্য বন্ধুদের জানালে তারাও জ্ঞানবাহনের আর্থিক সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় প্রথম পরীক্ষামূলক জ্ঞানবাহন কার্যক্রম শুরু করেন। ওপার বাংলায় জ্ঞানবাহনের দীর্ঘদিন পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। যে কারণে এটি বাংলাদেশের বন্দরনগরী খ্যাত চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চালু করেন।
জ্ঞানবাহনের প্রবক্তা অধ্যাপক বদরুল হুদা বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে জ্ঞানবাহন নিয়ে হাজির হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষদের সমস্যার কথা শুনছি, সঙ্গে আমাদের জ্ঞানবন্ধু (গাড়ির সহকারী) তাত্ক্ষণিক এর সমাধান দিচ্ছেন। এছাড়াও জ্ঞানবাহন প্রযুক্তিগত সকল সহায়তাও প্রদান করছে।’
এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীর লিটল জুয়েলস স্কুল এবং চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি নিয়মিত জ্ঞানবাহন রয়েছে বলে জানান জ্ঞানবাহনের প্রধান উপদেষ্টা মীর মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগামীতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানবাহনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
গ্রামীণ জনপদের মানুষদের জন্য ব্যতিক্রমী জ্ঞানবাহন চট্টগ্রামে মোট ৩টি রয়েছে। আগমীতে সারাদেশে আরো কয়েকটি জ্ঞানবাহন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।