দিবারাত্রির টেস্ট
স্পোর্টস রিপোর্টার
অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ডের প্রস্তাব কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দিবারাত্রির টেস্টের ইতিহাসে নাম লেখাতে বেশ কালক্ষেপণ করেছিল বিসিবি। অবশেষে গত নভেম্বরে ভারতের প্রস্তাবে সাড়া দেয় বিসিবি। বিসিসিআইয়ের অনুরোধের ঢেঁকি গিলে গতমাসে ইডেন গার্ডেনে ভারতের বিপক্ষে গোলাপি বলে প্রথম টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই গোলাপি বলে খেলতে নেমে তিক্তকর অভিজ্ঞতা সঙ্গী হয়েছে মুমিনুল হকের দলের। সোয়া দুই দিনেই ইডেনে ভারতের কাছে ইনিংস ও ৪৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
এবার বাংলাদেশকে দিবারাত্রির টেস্ট খেলার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন খবর প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। আগামী বছরের শুরুতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। যদিও সেই সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি বিসিবি। তবে পাকিস্তান যেতে সম্মত হয়েছে বিসিবি, এটুকু নিশ্চিত। সেই সফরেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে চায় পাকিস্তান।
বিসিবিকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেন্যুটা চূড়ান্ত করেছে পিসিবি। করাচিতে ম্যাচটা আয়োজন করতে চায় পিসিবি। সফরে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সঙ্গে তিনটি টি-২০ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
পিসিবির দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলছেন,‘আমি শুনেছি এমন প্রস্তাব এসেছে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত না। কারণ এসব বিষয় আমাদের প্রধান নির্বাহী দেখভাল করেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।’ যদিও গতকাল যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনকে। মুঠোফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও জানালেন, এ বিষয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে বিসিবির কোনো আলোচনা হয়নি। গতকাল তিনি বলেন,‘এটা আপনাদের কাছে শুনছি। এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা জানি না।’
গতমাসে বাংলাদেশ-ভারত দিবারাত্রির টেস্টটি ছিল উপমহাদেশের মাটিতে প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট। পাকিস্তান এরই মধ্যে বিদেশের মাটিতে চারটি দিবারাত্রির টেস্ট খেলেছে। প্রায় এক দশক পর পাকিস্তানের মাটিতে ফিরতে যাচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট। চলতি মাসেই ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে পাকিস্তান।
গোলাপি বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের অনভ্যস্ততা প্রকাশ পেয়েছে ইডেনে। পর্যাপ্ত অনুশীলন না থাকায় সংগ্রাম করেছেন ব্যাটসম্যানরা। মুশফিকুর রহিম ছাড়া কেউই বড়ো ইনিংস খেলতে পারেননি। তাই আরেকবার গোলাপি বলে টেস্ট খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে বিসিবিকে।
এদিকে পিসিবির নিরাপত্তা আয়োজনে তুষ্ট হয়েছে বিসিবি। গত অক্টোবরে পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিদর্শক দল পাঠিয়েছিল বিসিবি। তাদের রিপোর্টের পরই পাকিস্তান সফর করেছে বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৭ দল ও বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। যার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় দলও। পিসিবি পুরো সিরিজটাই পাকিস্তানে আয়োজন করার সিদ্ধান্তে অনড়। যদিও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা লম্বা সময়ের জন্য পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি নন। দুই টেস্ট, তিন টি-২০ মিলে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চান এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি টি-২০ খেলে ফিরে আসতে। পরে অন্য সময়ে বা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার আগ্রহ বাংলাদেশের। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি নয় পিসিবি। হোম সিরিজ দেশের বাইরে খেলবে না পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর নিয়ে বিসিবির অবস্থান কি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরো সিরিজ একসঙ্গে নাকি শুধু টি-২০ সিরিজ খেলে ফিরে আসবে বাংলাদেশ দল, তাই এখন দেখার বিষয়।