সাতক্ষীরায় হামলা, মামলায় জর্জরিত বিএনপিসহ অন্য প্রার্থীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে নৌকার প্রার্থীরা প্রচারণায় ফুরফুরে মেজাজে আছে। অন্যদিকে দৌড়ের ওপরে আছেন ধানের শীষসহ অন্য প্রার্থীরা।

বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানী করা হচ্ছে।  প্রচার মাইক নিয়ে তারা প্রচার চালাতে পারছেন না। তাদের প্রতীক সম্বলিত পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। পোস্টার লাগাতে গেলেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখ্ত বলেন, তার প্রচার মাইক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একটি এলাকায় তার মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। 

একই অভিযোগ করেন একই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, 'গত ১৪ ডিসেম্বর কলারোয়া বাজারে গণসংযোগকালে তাকেসহ তার সাত নেতাকর্মীকে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় মারাত্মক আহত চারজন  হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রকাশ্যে সরকারদলীয় লোকজন এ ঘটনা ঘটালেও পরদিন তাকে প্রধান আসামি করে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে বিএনপির এক নেতাকে দিয়ে উল্টো সাজানো মারামারির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার ফলে তিনি ও তার কর্মীরা স্বাধীনভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছেন না।'

তিনি বলেন, 'তালা ও কলারোয়ার ধানের শীষের পোস্টার নেই। সব ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।' তিনি বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছেন বলে জানান। 

এই আসনের কাস্তে প্রতীকধারী প্রার্থী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. আজিজুর রহমান রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, 'তালার খলিশখালী বাজারে তিনি যখন পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন একদল যুবক পথসভা করা যাবে না বলে হুমকি দেয়। তারা প্রচার মাইক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ পরে তাদের সরিয়ে দেয়।'

তিনি জানান, 'এরপর থেকে তার কর্মীরা মাঠে প্রচারে নামতে পারছেন না।'

এদিকে, সাতক্ষীরা সদর আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাতলুব হোসেন লিয়ন ১৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, 'আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। তার প্রচার মাইক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ নৌকার প্রার্থী আচরণ বিধি লংঘন করে প্রচার প্রচারনা চালালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।'

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন বলেন, 'সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা-২ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থীর পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রচার চালাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি।'

সাতক্ষীরা-২ আসনের ২০ দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আবদুল খালেক ৩৮ মামলায় কারাগারে অন্তরীন থেকে নির্বাচন করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম অভিযোগ করে বলেন, 'কোনো মামলা না থাকলেও আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে গত দুদিনে ১৪জন বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে প্রচারণায় যেতে নিষেধ করেছে। প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে আমার কর্মীদের। ভাংচুর করা হচ্ছে প্রচার মাইক। ছিড়ে ফেলা হচ্ছে নির্বাচনী পোস্টার।'

এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিকল্পধারা প্রার্থী এইচএম গোলাম রেজা ১৫ ডিসেম্বর তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন তার কর্মীরা প্রচার চালাতে পারছেন না। গণসংযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার প্রচার মাইক ভাংচুর এবং পথসভায় ইটপাটকেল মারা হচ্ছে। দুইজনকে মারধরও করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, 'আমার আসনে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। এই আসনে রবিবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল বারীসহ চার জামায়াত নেতাকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপর থেকে ভয়ে তাদের কর্মীরা মাঠে নেই। তাদের পোস্টারও দেখা মিলছে না কোথাও।'

সাতক্ষীরা-২ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ৭২জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি নিজেরা মারামারি করছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপি নেতা। এতে আমাদের কিছু করার নেই’। 

পুলিশ বলছে, 'আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট মামলায়।'

নির্বাচনে মহাজোটের শরীকরাও শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবু আহমেদ বলেন, 'যদি কেউ পোস্টার ছেড়ে বা প্রচার মাইক ভাংচুর করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।'

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার বলেন, পুলিশ কাউকে হুমকি-ধামকি দিতে যাবে কেন? তাছাড়া পোস্টার ছেড়া বা প্রচার মাইক ভাঙার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে মোটেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: মাহবুব তালুকদার

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, 'কেউ কোনো সুনিদিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

ইত্তেফাক/নূহু