অষ্টাদশ শতকে ঢাকা পৃথিবীর সেরা শহরগুলোর মধ্যে দ্বাদশতম ছিল। ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে বাংলা, পূর্ববঙ্গ আর বাংলাদেশের পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস। ঢাকার বয়স এরই মধ্যে ৪০০ বছর পেরিয়েছে। ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বসবাসের অনুপযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসছে। কর্মসংস্থানের অভাব, নদী ভাঙন, ভূমিহীনতা, পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন কারণে মানুষ ঢাকা শহরের দিকে ঝুঁকছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভারে এ শহরটি নাকাল হয়ে পড়েছে। এতে যানজট, আবাসিক সংকট, পরিবেশদূষণ, অপরাধমূলক কাজ বাড়ছে। যানজটের কারণে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, এমনকি মানুষের চাপে ফুটপাতে হাঁটতেও কষ্ট হয়। বাড়ছে বস্তির সংখ্যা এবং অনেকেই ফুটপাতে অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রি যাপন করছে। এ অবস্থায়, গ্রামায়ন হতে পারে বিকল্প সমাধান। এখানে গ্রামায়ন বলতে নগরের সুবিধাগুলো গ্রামে পৌঁছানোকে বুঝিয়েছি। নগরের সুবিধাগুলো গ্রামে পৌঁছানো গেলে মানুষ শহরমুখী না হয়ে গ্রামেই থাকবে। গ্রাম পর্যায়ে শিল্প-কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে স্থানান্তর করা হলে ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে। তাই বলব—নগরায়ন নয় গ্রামায়ন দরকার। এ বিষয়ে সকলের সচেতনতা ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
নজরুল ইসলাম নোবু
শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা