দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে বিদেশি ঋণ সহায়তার ১৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী এই চার মাসে বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার কম।
চলতি অর্থবছরে প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক সহায়তা হতে ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের মাত্র ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ অবস্থায় এডিপির বৈদেশিক সহায়তার অংশ সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের মতো বরাদ্দ কাটছাঁটের জন্য গেল সপ্তাহে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকও শুরু করেছে ইআরডি। ইআরডির কর্তকর্তারা জানান, আলোচনার ভিত্তিতে প্রকল্প সাহায্য নির্ধারণ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্থ ব্যয়ের তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পাবে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে চার মাসের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত এডিপিতে চলতি ও অনুমোদিত নতুন প্রকল্পে বরাদ্দের চাহিদাও জানাতে বলা হয়েছে।
ইআরডির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বৈদেশিক সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতিও কমেছে। অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ২২২ কোটি ২৭ লাখ ডলারের নতুন চুক্তি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৬১ কোটি ডলার। অর্থাত্ আগের বছরে চেয়ে ৩৯ শতাংশ কমেছে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ। ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সবসময়ই কাজের গতি কম থাকে, শেষের দিকে বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া ক্রয় সংক্রান্ত বড়ো প্রকল্পগুলো খরচের পর বাস্তবায়ন দেখানো হয়, এজন্য কাজ চলমান থাকলেও আর্থিক অগ্রগতির তথ্য দেরিতে বা একসঙ্গে দেখানো হয়। অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কাজের গতি বৃদ্ধি পেলে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা ইআরডির কর্মকর্তাদের।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক সাহায্য ব্যয় বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে করা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের মধ্যে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এডিপি ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল বা জিওবি খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা থেকে ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ২২২ কোটি টাকা বা ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে বৈদেশিক সাহায্যের অংশের ব্যয় বরাবরের মতোই পিছিয়ে রয়েছে। এ অংশের ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে চার মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ব্যয় বা বাস্তবায়নের এর হার গেল পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে ৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বা ঐ বছরের বরাদ্দের ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একই সময়ে ১১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ খরচ হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রথম চার মাসে ব্যয় হয়েছিল ৪ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা বা ঐ বছরের বরাদ্দের ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা ঐ সময়ের ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাত্ শতাংশের হিসাবে এবছরের বৈদেশিক অংশ বাস্তবায়ন হার পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বৈদিশক সহায়তার মোট অর্থছাড় হয়েছিল ৬২১ কোটি ৭ লাখ ডলার। তার সঙ্গে ২২৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার বাড়িয়ে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার অর্থছাড়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইআরডি।