নারায়ণগঞ্জে বন্ডের অবৈধ সুতা

নারায়ণগঞ্জে বন্ড সুবিধায় আনা সুতা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টম বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার সুতা আটক করেছে। নারায়ণগঞ্জের বাজারে আরো সুতা রয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে প্রভাবশালীদের কারণে সঠিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। উপরন্তু, এসব সুতা ধরতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা হয়রানি, বদলির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে, রবিবার টানবাজার এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হলে বিসমি ইয়ার্ন ট্রেডিং এর গুদাম এবং পার্শ্ববর্তী মাঠ থেকে প্রায় ১০ টন অবৈধ বন্ডেড সুতা উদ্ধারপূর্বক আটক করা হয়। এসব পণ্য বিদেশ থেকে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করে রপ্তানির পরিবর্তে চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আটক পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আদায়যোগ্য শুল্ক-করাদির পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। অভিযান পরিচালনা করেন উপকমিশনার রেজভী আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার মো. আল আমিন, শরীফ মোহাম্মদ ফয়সাল, আকতার হোসেন এর সম্মিলিত প্রিভেন্টিভ টিম। এছাড়া সিআইডি পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ এবং নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট বিভাগ অভিযানে সহায়তা করে।

বন্ড কমিশনারেট সূত্রমতে, যেসব উত্স থেকে এবং যাদের মাধ্যমে টানবাজারে অবৈধ বন্ডেড সুতার সিন্ডিকেট বাণিজ্য গড়ে উঠেছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করার পর দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যদিও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের একটি নিটওয়্যার কোম্পানির নামে আনা অবৈধ সুতা বিক্রির ঘটনায় কর্মকর্তাদের বদলি হতে হয়েছে। ঐ কোম্পানিকে ইতিপূর্বে পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানাও করেছিল। এ ধরনের অনেক প্রভাবশালীর কারণেই বন্ডের সুতা খোলা বাজারে চলে আসছে।