গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুমলিয়া ও নাগরী ইউনিয়নের তিন স্থানে টায়ার পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ফুয়েল। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, মরছে পশুপাখি ও গাছপালা। স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগের পরেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে ঐসব ফুয়েল কারখানা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের উত্তরসোম গ্রামের শীতলক্ষ্যার নদীর কূল ঘেঁসে গড়ে ওঠেছে ইউরিং কো বাংলাদেশ নামের একটি ফুয়েল কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ঐ ফুয়েল কারখানাটিকে অর্থদণ্ড করে ও সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাতের বেলায় তারা চালিয়ে যাচ্ছে উত্পাদন। তবে ঐ ফুয়েল কারখানার ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতেই তারা তাদের কারখানায় উত্পাদন শুরু করেছে। এদিকে একই উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের জনবহুল এলাকার কেটুন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্লান এনার্জি ও এক্সট্রিম পাইরোলাইসিস ফুয়েল ইন্ডা. লি. নামের দুটি ফুয়েল কারখানা গড়ে উঠেছে। এর আগে ঐ দুটি ফুয়েল কারখানাকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জেল জরিমানা করলেও পুনরায় পূর্বের মতোই চলছে কারখানা দুটি।
কথা হয় গ্লান এনার্জি ও এক্সট্রিম পাইরোলাইসিস ফুয়েল ইন্ডা. লি. এর কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা জানান, স্বাস্থ্যের জন্য এই ফুয়েল কারখানা ক্ষতিকর জেনেও কেবল পেটের তাগিদেই তারা সেখানে কাজ করছেন। কেউ কেউ জানান, তাদের অন্য চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ফুয়েল কারখানা তাদের স্বাস্থ্যের খুব ক্ষতি করছে। তাই চলতি মাসের বেতন নিয়ে তারা চলে যাবেন।
এলাকাবাসী জানায়, একাধিকবার তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেল-জরিমানা হলেও অজ্ঞাত কারণে আবারও চালু হয়েছে কারখানাগুলো। তারা আরো জানান, এই ফুয়েল কারখানায় যখন টায়ার পোড়ায় তখন শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ও চোখ জ্বালাপোড়া করে। পাশাপাশি বেশ কিছু গবাদি পশু এই ফুয়েল কারখানার আশপাশে ঘাস খেয়ে মারা গেছে। এলাকার ফল-ফলাদির ফলন কমে গেছে। মরে গেছে গাছপালা। স্থানীয় তুমলিয়া ইউপি সদস্য মো. আরমান মিয়া জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউরিং কো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলে, তারা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে উত্পাদন চালু করেছে বলে তাকে জানায়। নাগরী ইউপি সদস্য বাবুল রোজারিও জানান, গ্লান এনার্জি ও এক্সট্রিম পাইরোলাইসিস ফুয়েল ইন্ডা. লি. কারখানা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় গবাদি পশুসহ গাছপালা মরে যাচ্ছে। তিনিও চান ঐ কারাখানাগুলো বন্ধ হোক।
পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলার উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম জানায়, এসব কারখানার কোনো অনুমোদন নেই। তারপরও কিভাবে এগুলো চলছে সেটি তার জানা নেই। তিনি কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক জানান, পুনরায় অভিযান চালিয়ে এসব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।