মানিকগঞ্জে সর্বত্র এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি

মানিকগঞ্জের সর্বত্রই বেড়ে গেছে এলপিজি গ্যাসের দাম। রান্নার কাজে নিত্য ব্যবহার্য  এলপিজি গ্যাসের ছোটো সিলিন্ডার প্রতিটির দাম বেড়েছে ১২০ টাকা এবং বড়ো সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪০০ টাকা। স্থানীয় ক্রেতা সাহিদ মিয়া জানান, আগে আমরা যে গ্যাস সিলিন্ডার সাড়ে ৯৫০ টাকায় ক্রয় করেছি এখন সেই সিলিন্ডার ১ হাজার ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দেশে এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো গত এক সপ্তাহ ধরে একযোগে সারাদেশে বর্ধিত মূল্য কার্যকর করেছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষের সাংসারিক ব্যয়ের পরিমাণ আরেক দফা বাড়ল।

মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে কয়েকদিন ধরে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। মূল্যবৃদ্ধির পূর্বে কোম্পানিগুলোর স্থানীয় পরিবেশকরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহ করা কমিয়ে দেয়। মজুত থাকা সিলিন্ডার পরিবেশকরা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করার জন্য কৌশলে সরবরাহ কমিয়ে দেয় বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ। মানিকগঞ্জের একাধিক খুচরা দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারি দাম ৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে পরিবেশকদের কাছ থেকে। ভোক্তাদের কাছে প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে ১ হাজার ২০ টাকা দরে। এর আগে এলপিজি সিলিন্ডারের পাইকারি মূল্য ছিল ৮২০ টাকার মধ্যে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হতো ৯০০ থেকে ৯২০ টাকায়। বড়ো সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে একটি বড়ো সিলিন্ডারের পাইকারি মূল্য ২ হাজার ৪০০ টাকা যা দাম বাড়ার আগে ছিল ২ হাজার টাকা। এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কোম্পানির মানিকগঞ্জের পরিবেশক বলেন, শীতে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিবছর শীতের শুরুতে গ্যাসের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দাম বেড়েছে বলে এ ব্যবসায়ীর দাবি। তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানি তাদের স্থানীয় পরিবেশকদের গত সপ্তাহেই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে খুচরা বিক্রেতা রতন বিশ্বাস বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থানীয় পরিবেশকরা দাম বাড়িয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির পূর্বে  অনেকে সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে দেন নানা অজুহাতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের বাজারে কমপক্ষে ১০/১২টি কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, বসুন্ধরা, ওমেরা, বেক্সিমকো, ডেলটা, গ্রীণ লাইফ, জি-গ্যাস, প্রসিতা, নাভানা, বিএম, টোটাল, ওমেগা, অরিয়ন, পেট্টোম্যাক্স, জি গ্যাস ইত্যাদি।