গাজীপুরের শ্রীপুরে অপহরণের পাঁচ দিন পর শনিবার গভীর রাতে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৪। এ ঘটনায় রবিবার সকালে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন মোগরাকান্দা গ্রামের আক্কেল আলীর পুত্র আলী হোসেন (৪৪), ভোলা জেলার লালমোহন থানার চরাটি গ্রামের মৃত রাসেল মিয়ার পুত্র সোলায়মান (৩৬) ও একই জেলার কাদিরাবাদ গ্রামের আবুল কালামের পুত্র শামীম (২২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ছাত্রীর পরিবার শ্রীপুরের পাথারপাড়া এলাকায় এক বাড়িতে ভাড়া থাকে এবং মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ৩ ডিসেম্বর বিকেলে ঐ ছাত্রী মাদরাসা থেকে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে বিকেলে নিখোঁজ হয় সে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা পরদিন শ্রীপুর থানায় জিডি করেন। আলী হোসেন ভিকটিমের বাবার পূর্বপরিচিত। ঘটনার দিন বিকালে সে মাওনা সলিং মোড় এলাকায় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার নিয়ে রহস্যজনকভাবে ঘোরাফেরা করে। সন্দেহ হওয়ায় ভিকটিমের মা ৫ ডিসেম্বর আলীকে মোবাইলে ফোন করে তার মেয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে তার মেয়ে ভালো আছে বলে সে জানায়। এ ঘটনাটি ছাত্রীর মা ঢাকার গাবতলী এলাকার কর্তব্যরত র্যাব-৪ এর একটি টহল টিমের ডিএডি ওয়াহেদকে জানান। র্যাবের টহল দল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ৭ ডিসেম্বর পৌনে ১টার দিকে মধুমতি টাউন এলাকার এইচ ব্লক থেকে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করেন। আলী হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে শনিবার রাতেই র্যাব ঢাকার আশুলিয়া এলাকার শ্রীপুর ফিনিক্স রোডের হামিদ কলোনির খলিলের বাড়ি থেকে অপহূত ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামি সোলায়মান ও শামীমকে গ্রেফতার করে। ভিকটিম জানায়, সোলমান ও শামীমের সহযোগিতায় আলী হোসেন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে রবিবার সকালে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। চকপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মেনহাজ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।