আজ আড়াইহাজার মুক্ত দিবস

আজ ৯ ডিসেম্বর আড়াইহাজার মুক্ত দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে সংগ্রামী জনতা এ দেশকে স্বাধীন করেছে। জীবনবাজি রেখে নদীতে ডুব সাঁতার দিয়ে পাঁচরুখী ব্রিজের পিলারের নিচে ডিনামাইট ফিট করে ব্রিজটি উড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই আড়াইহাজার উপজেলায় বিজয়ের সূচনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রথম স্বাধীন পতাকা ওড়ে আড়াইহাজারে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত হয়েছিল আড়াইহাজার থানা। প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দিনটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আড়াইহাজার এলাকাটি শত্রুমুক্ত হয়। উপজেলার পাঁচরুখী ব্রিজ, ডহরগাঁও, এবং মেঘনা নদী দিয়ে অপারেশন  চালানো হয়। আড়াইহাজার থানা কমান্ডার এম এ সামাদ স্থল ও জলপথ দুই দিক দিয়েই ডিসেম্বরের প্রথমে সদরের পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। প্রবল আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী ঐ সময় আড়াইহাজার থানা এলাকা ছেড়ে ভুলতা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ সামাদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরের ডাকবাংলোয় অবস্থিত পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প দখল করে নেন। সেই সঙ্গে স্বাধীন দেশের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে থাকে।

‘সেই দিনটি ঈদের দিনের চেয়ে বেশি আনন্দের দিন ছিল। আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম। এই আমার দেশ। এই আমার দেশের মাটি। স্বাধীন করতে পেরেছি।’ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রণাঙ্গনের বীরসেনা আড়াইহাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি  কমান্ডার কাজী ওয়াজ উদ্দিন।