বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ৪ হাজার কিলোমিটার পদযাত্রা কর্মসূচিতে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছেই। ২১ নভেম্বর থেকে গত ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১৬ দিনে দেশের অন্তত ছয়টি স্থানে সিপিবির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় দলটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খানসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রতিটি ঘটনার জন্যই সিপিবি ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেছে।
সিপিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচনব্যবস্থা চালু করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দখলমুক্ত করাসহ ১৭ দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কিন্তু যেখানেই মিছিল ও সমাবেশ করা হচ্ছে, সেখানেই হামলা চালানোর ঘটনা ঘটছে। সিপিবি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বাম রাজনৈতিক দল-জোটগুলো ইতিমধ্যে এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে মনজুরুল আহসান খানের মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা সরকারের ফ্যাসিবাদী রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বারবার কমিউনিস্ট পার্টির ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু হামলা-নির্যাতন করে কমিউনিস্ট পার্টিকে দমানো যাবে না। গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে সিপিবি তার লড়াই অব্যাহত রাখবে।
গত ২৮ নভেম্বর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সিপিবির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় আহত হন মনজুরুল আহসান খান ছাড়াও হযরত আলী, শিবলুল বারী রাজু, আলী আক্কাছ, মারুফ আহাম্মেদ খান মানিকসহ দলের অন্তত ২০ নেতাকর্মী। ঐ দিন সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মাদারগঞ্জ থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ১৭ দফা দাবিতে সিপিবির ৪ হাজার কিলোমিটার পদযাত্রার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামালপুর জেলা সিপিবি ঐ পদযাত্রা বের করে। জামালপুরে পদযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন মনজুরুল আহসান খান। জামালপুরে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঐ দিনই রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে মিছিল বের করে ছাত্র ইউনিয়ন। সেখানেও তাদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের হোসেন আলী, অনিক রায় ও মঞ্জুর মঈন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নেন। জামালপুরে হামলার প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কেও সমাবেশ হয়েছে। ঢাকায় হামলার ঘটনায় পরদিন পল্টন মডেল থানায় মামলা হয়।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজারে পথসভায়ও হামলা করে দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান বাসার, সাধারণ সম্পাদক পরেশ করসহ কয়েকজন লাঞ্ছিত হন। একই দিন মাদারীপুর কালকিনিতেও সিপিবির পথসভায় হামলা হয়। এতে গুরুতর আহত হন সরোয়ার হোসেন মোল্লা ও খোকন শীল। গত ২১ নভেম্বর বরগুনা শহরে পদযাত্রা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। সর্বশেষ হামলা হয় গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে সিপিবি।
বিভিন্ন স্থানে সিপিবির পদযাত্রায় হামলায় ইতিমধ্যে ধিক্কার জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক প্রমুখ।