আমাদের দেশের প্রকৃতি-পরিবেশ তথা গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে ঢোল কলমি খুবই পরিচিত এক উদ্ভিদ। রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ময়দানে, জলাশয়-খাল-বিলের ধারে, হাওর-বাঁওড় ও পাহাড়ের ঢালে ঢোল কলমি ফুল চোখে পড়ে। ঢোল কলমি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। পরিবার Convolvulaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Ipomoea carnea। আদি নিবাস সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল। গাছ বেশ কষ্ট সহনশীল। তাই তো বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ত পরিবেশসহ প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। দ্রুত বর্ধনশীল বলে অল্পদিনের মাঝে ঘন ঝোপে পরিণত হয়ে ওঠে।
এ উদ্ভিদ লোকজনের কাছে আগাছা হিসেবেই পরিচিত। গাছের কাণ্ড ফাঁপা। গাছের উচ্চতা গড়ে ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাণ্ড দিয়ে কাগজ তৈরি হয়। ব্রাজিলের আদিবাসীরা এর কাণ্ড তামাক পাইপ হিসেবে ব্যবহার করে। পাতা গাঢ় সবুজ, হূদপিণ্ডাকার, অগ্রভাগ সুচালো। এই গাছ ভূমিক্ষয় রোধ করে। তাই হাওর অঞ্চলে বাড়ির পাশে, পুকুর পাড়ে রোপণ করা গেলে পানির স্রোত ও ঢেউ থেকে ভাঙন রোধ করে। গ্রামাঞ্চলে ফসলি জমির আইলে চাষিরা জীবন্ত বেড়া হিসেবে রোপণ করে থাকেন।
ঢোল কলমির বীজ ও পাতায় বিষাক্ত উপাদান থাকে। গাছের পাতা তেতো স্বাদের ও কষযুক্ত বলে গরু-ছাগল তা খায় না। ফলে ফসলি জমির বেড়া তৈরিতে ঢোল কলমির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ঢোল কলমি গাছে সারা বছর ধরে ফুল ফোটে, যা ছোটো-বড়ো সবার নজর কাড়ে। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে ঢোল কলমির ফুল নিয়ে খেলা করতে দেখা যায়।
বর্ষার শেষ ভাগ থেকে শরত্, হেমন্ত ও শীতকালে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। একটি মঞ্জরিতে একত্রে ৪ থেকে ৮ টি ফুল ধরতে দেখা যায়। ফুল ফুটন্ত গাছে ফুলের মধু আহরণে বিভিন্ন রকম পতঙ্গের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। ফুল দেখতে ফানেল বা ঘণ্টা আকৃতির, গন্ধহীন, মাঝে পরাগ অবস্থিত। রং হালকা বেগুনি থেকে হালকা গোলাপি। পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি, যা নমনীয় কোমল।
ঢোল কলমির রয়েছে ভেষজগুণ।