স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে চলছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৫। সম্মেলনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কার্যত জলবায়ু ইস্যুতে কোন মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো। ফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন সম্মেলন পর্যবেক্ষকরা। তারা এই ইস্যুতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীদের দুষছেন। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীরা ‘রাজনীতি খেলা খেলছেন’। খবর বিবিসি’র
গত ২ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই সম্মেলনে বিশ্বের দুইশ’টি দেশের রাজনৈতিক নেতা ও জলবায়ু কূটনীতিকরা অংশ নিয়েছেন। কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিস বা কপ নামে পরিচিত এ বছরের সম্মেলন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। মানবসৃষ্ট নানা কারণে বিশ্বে গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত বাড়ছে। ফলে তাপমাত্রাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে সারা বিশ্ব জুড়ে নজিরবিহীন দাবানল, বন্যা, সাইক্লোন ও খরার মতো দুর্যোগ বাড়ছে।
তাছাড়া, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সকল দেশকে ‘ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান' তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, এই প্ল্যান তৈরি করতে হাতে আছে আর মাত্র এক বছর। ফলে যেসব দেশ এখনো এই কাজ শেষ করতে পারেনি, তাদের উপর চাপ তৈরির শেষ সুযোগ এবারের সম্মেলন।
তবে সপ্তাহ খানেক পেরিয়ে গেলেও আশানরুপ কোন অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সম্মেলনে যোগ দেওয়া পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে অন্তত ৫ লাখ মানুষ মাদ্রিদের রাস্তায় নামলেও জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারীরা সে বার্তা পাননি।
পাওয়ার শিফট আফ্রিকা’র পরিচালক মোহাম্মদ অ্যাডো বলেন, ‘সমস্যা হলো, মাদ্রিদের রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করছেন এবং স্কুলের শিশুরা আন্দোলন করছে, আর এর মধ্যে দেশগুলো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার নামে ‘রাজনীতি খেলা খেলছেন।’
পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ কার্বন নিঃসরণ নিয়ে সম্মেলনে তেমন কোন আলোচনা হয়নি। জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকারীরা অধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর উপর কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীদের দায় দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারীরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছেন।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বের ধনী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ দেশ তা করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে দেশগুলো সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার বদলে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোন কিনলে পেঁয়াজ ফ্রি!
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যতম প্রণেতা লরেন্স তুবিয়ানা বলেন, ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ২০২০ সালের মধ্যে নতুন জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা ছিল। এক্ষেত্রে সবার আগে কার্বন নিঃসরণে শীর্ষ ১০ দেশের এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি ব্রাসেলস, দিল্লি, বেইজিং, টোকিও এবং অটোয়া জলবায়ু ইস্যুতে খুব ইতিবাচক, তাই চলতি সপ্তাহেই তাদেরকে চুক্তির প্রতিশ্রুতি আদায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
চলতি সপ্তাহে জলবায়ু সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবার কথা রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।
ইত্তেফাক/এসইউ