রুম্পা-সৈকতের কথোপকথন হতো সামাজিক মাধ্যমে

হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষক-সহপাঠীদের বিক্ষোভ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে না তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সেই রহস্য ভেদে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ ও সিআইডি। এরই মধ্যে রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিক সৈকতকে গ্রেফতারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় আবারও নিজেকে জড়িত না থাকার কথা জানিয়েছেন আব্দুর রহমান সৈকত। এতে একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে মামলার তদন্ত। তার মৃত্যুর বিষয়ে নানা অঙ্ক মিলাতে পারছেন না মামলার তদন্তকারীরা। আবার সৈকতকে ঘিরে তাদের মধ্যে সন্দেহের ঘোরও কাটছে না। এদিকে রুম্পার মৃত্যুর বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের মুখপাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জিসাদ মোহাম্মদ বলেন,‘রুম্পা হত্যার পাঁচদিন পার হলেও হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। রুম্পা হত্যার রহস্য তার সহপাঠীরা জানতে চায়। তাই দ্রুত এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। গত চারদিন ধরে আমরা ক্যাম্পাসের মধ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসন এখনো ঘুমিয়ে আছে। তাই রবিবার আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি।’ তিনি বলেন,‘মঙ্গলবারের মধ্যে রুম্পার ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলে বুধবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন।’

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ নাহিদ নিয়াজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।  দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষিকা সাকিরা বলেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে হারাতে চাই না। আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, এটাও আমরা দেখতে চাই না। কোনো বাবা তার সন্তান হারাবে, তা আর চাই না। রুম্পা কেন খুন হয়েছে, কে করেছে, কীভাবে করেছে—তা জানতে চাই। দ্রুত প্রশাসনকে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকতের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে কথোপকথন হতো। মোবাইল ফোনে খুব কমই কথা হতো। কিন্তু একপর্যায়ে তিন-চার মাস আগে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয় বলে রুম্পাকে জানিয়ে দেন সৈকত। কিন্তু রুম্পা  সৈকতের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন। ঘটনার দিন সৈকতের সঙ্গে দেখা করার জন্য ক্যাম্পাসে গেলে তাকে দেখে সৈকত অবাক হন। ঐ সময় সৈকত সম্পর্ক না রাখার বিষয়টি আবারও রুম্পাকে জানান। এ নিয়ে রুম্পা বিমর্ষ ছিলেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া পাওয়া যায়নি মারধরের জখমের চিহ্নও। তবে রুম্পার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিনি ওপর থেকে পড়েছেন। এর ফলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, মৃতদেহ থেকে হাই ভেজাইনাল সোয়াব, ভিসেরা, রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল অ্যানালাইসিস রিপোর্ট আমাদের কাছে না আসবে এ ব্যাপারে আমরা চূড়ান্ত মতামত দিতে পারব না। জানা গেছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরীক্ষাগার থেকে রুম্পার ডিএনএ নমুনা, ভিসেরা ও ব্লাড পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে।