এসএ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ কখনো এক আসরে ১৯টি সোনার পদক জয় করতে পারেনি। এবার নেপালে ১৩তম এসএ গেমস হতে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা ১৯টি সোনার পদক জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। গতকাল পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব—২৩ দল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনার পদক জয় করেছে। ১০ দিনের গেমস আজ শেষ হবে। তার আগেই ৯ দিনে ১৯টি সোনার পদক জয় করে বাংলার ক্রীড়াবিদরা উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন।
২০১৬ সালে এসএ গেমসে মাত্র চারটি সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। তারও আগে ঢাকায় ২০১০ সালে এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮টি সোনার পদক জয় করেছিল। সেই রেকর্ড ছুঁয়েই ক্ষান্ত হন ক্রীড়াবিদরা। ৮৪ সালে নেপাল হতে শুরু হওয়া সাফ গেমস নামের এই দক্ষিণ এশিয়ার গেমসের পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ।
১৯টি সোনার পদকের মধ্যে আর্চারি থেকে এসেছে ১০টি সোনার পদক। যদিও ভারত আর্চারিতে ছিল না। এই সুযোগে আর্চারির ১০ ইভেন্টের ১০টিতেই সোনার পদক জয় করেছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। এই ইতিহাসও এবার প্রথম। আবেগে চোখের জল পড়েছে নেপালের পোখারায়।
আরো রেকর্ড আছে, ৯৩ সালে ঢাকায় তৃতীয় সাফ গেমসে বাংলাদেশের শুটাররাই জয় করেছিলেন আটটি সোনার পদক। আর দেশের বাইরে ৯৫ সালে মাদ্রাজ সাফ গেমসে মাত্র সাতটি সোনার পদক জয় করেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের বাইরে সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে গেল। যাদের নিয়ে গেমসে সোনা জয়ের অধিক প্রত্যাশা ছিল তারা হতাশায় ডুবিয়েছে। যেমন-ফুটবল, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, শুটিং, গলফসহ আরো একাধিক ডিসিপ্লিনে সোনার পদক জয়ের প্রত্যাশা থাকলে তা অর্জিত হয়নি। ফেন্সিংয়ে সোনার পদক আসবে আশা ছিল না। তারা সোনার পদক উপহার দিয়েছেন। তায়কোয়ান্দোতে প্রথম দিনই সোনার পদক উপহার দিয়েছেন দিপু চাকমা। কারাতে হতে এসেছে তিনটি পদক।
আর্চারিতে সোনার পদকের আশা ছিল। তবে এতটা ছিল না। ৩৫ বছরের গেমস ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী ক্রীড়াবিদ তিনটি সোনার পদক জয় করেছেন। এই আর্চার ১৪ বছর বয়সি ইতি খাতুন। বিভিন্ন ইভেন্টে তিনটি সোনা জয় করেছে চুয়াডাঙ্গার হোটেল কর্মচারী ইবাদত আলীর মেয়ে ইতি খাতুন। একটি ইভেন্টে এই ইতি ভুটানের এমন এক আর্চারকে হারিয়েছেন যিনি এরই মধ্যে টোকিও অলিম্পিক গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অথচ এই ইতিকে তার বাবা বাল্যবিবাহ দিতে চেয়েছিলেন। সেখান থেকে নিজেকে রক্ষা করেছিল ইতি। (আরো খবর খেলার পাতায়)।