বটি দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটা সেই আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

বটি দিয়ে গৃহবধূর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালতে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আবদুর রশিদ উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এদিকে এ মামলার অন্য চার আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।   

উক্ত ঘটনায় কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে গত রবিবার সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উল্লাপাড়া থানাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সংবাদ মাধ্যম আসামিকে খুঁজে পেলেও পুলিশ কেন তাদের সন্ধান পায় না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।

অপরদিকে, আদালতের এ নির্দেশনার পর সোমবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান ও থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান। সেখানে তাদের খোঁজ-খবর নেন। তাদের নিরাপত্তায় রবিবার রাত থেকে বাড়িতে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে বলেও জানান ইউএনও। 

আরো পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুনানি শুরু

ওসি শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, মামলার প্রধান আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

গত ২৫ নভেম্বর রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- গজাইল গ্রামের মোজাহারের ছেলে মুনসুর (৩৮), বাহের প্রামাণিকের ছেলে আবদুস সালাম (৪৫), নাসির উদ্দিন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩২)।

ওই নারীর অভিযোগ, ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি তার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের খোঁজে বের হন। পথিমধ্যে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ ও তার চার সহযোগী ওই নারীর পথরোধ করেন। এসময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে চিৎকার শুরু করেন তারা। এতে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে তাদের সামনে তাকে বিবস্ত্র করে মারপিট করা হয়। পরে লোকদের সামনে বটি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ