১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতা। একটি স্বাধীন সাবভৌম রাষ্ট্র। রয়েছে আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই আত্মত্যাগে অর্জিত সোনার বাংলায় গড়ে তুলতে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা জানাচ্ছেন— মো. উমর ফারুক
১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার স্বাধীনতাকামী জনতার মতো বাবাও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। নিজের জীবনকে বাজি রেখে জয় বাংলার স্লোগানে অস্ত্র হাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশমাতৃকা রক্ষায় করেছেন যুদ্ধ। তাদের জন্য আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র। দেশে দুর্নীতিমুক্ত, সুষম উন্নয়ন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পূর্ণ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তাহলেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে— এমনটাই জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অমর কুমার রায়।
মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার রাষ্ট্রের আদর্শ হিসেবে সংবিধানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে, এমনটা মনে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল মজিদ বলেন, বাঙালির লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের গৌরবের হলেও ৪৮ বছরেও আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ এখনো প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। যদি সেই আদর্শ লালন করা যায়, তবেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করছেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করার কথা বলে অশ্রুসিক্ত নয়নে শাহাদাত হোসেন বললেন তার কথা। আমার বাবা এক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি প্রায়ই আমাদের বলতেন কখন বড়ো হব। কখন চাকরি পাব। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে এ দেশকে যারা স্বাধীন করেছে, তারাই বেশি বঞ্চিত ও অবহেলিত। আজও এ দেশের জন্মদাতারা রিকশা চালান, জুতা সেলাই করেন, ভিক্ষা করেন। সরকারকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি দেশ থেকে আরেকটি দেশের বিভাজন নয় বরং এই যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক আর ভৌগোলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর দেখানো এই স্বপ্নকে পুঁজি করেই মুক্তিকামী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। জীবনকে বাজি রেখে জাতির সূর্যসন্তানেরা যে দেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন, দেশটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে, এমনটাই বললেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুহতাসিম বিল্লাহ।
বিজয়ের মাসে দেশের তরুণ প্রজন্মরা শপথ গ্রহণ করার পাশাপাশি সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদমুক্ত একটি সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করা এবং জাতিকে একটি অর্থনৈতিক মুক্তির রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করার কথা জানালেন মেহেরাব খন্দকার।
তরুণদের মতামতের প্রেক্ষিতে এমনটাই বলা যায়, ৩০ লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে থাকবে না কোনো অন্যায়, অবিচার। ভোগ করবে সমান অধিকার। থাকবে না কোনো বৈষম্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তরুণরা। তারুণ্যের শক্তিতে গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।