মাহবুব নাহিদ
শুধু নিকটাত্মীয়রা নয়, চাইলে ইমোশনাল ডোনাররাও দিতে পারবেন কিডনি। ৫ ডিসেম্বর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই পিছনে জড়িয়ে আছে তিন জন নারীর গল্প। ফাতেমা জোহরা তার মেয়ের কিডনিজনিত সমস্যায় পড়ায় এই রিট আবেদন করেন। তার করা এই রিটের পক্ষে লড়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা। এর আগেও তিনি বিভিন্ন জনহিতকর মামলা লড়েছেন। কিছুদিন আগে তিনি লড়েছেন অনিয়মিত সিজার বন্ধ করার মামলায়। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড ট্রাস্ট সার্ভিসেসের পক্ষে লড়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নীতিমালার জন্য মামলায়, এই মামলায় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আনিতা গাজী রহমান। মানবদেহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের যে আইন এখন কার্যকর রয়েছে তার ২(গ), ৩ ও ৬ ধারায় নিকটাত্মীয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে ফাতেমা জোহরার আবেদনে আইনের ঐ ধারাগুলোর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তার দায়ের করা মামলায় লড়েন রাশনা ইমাম। এক বছরের মধ্যে নিকটাত্মীয়ের কিছুটা সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হলেও তারা আবারও আবেদন করেন যাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত কেউ বা নিকটাত্মীয়ের বাইরে কোনো আত্মীয় ইমোশনাল কারণে অর্গান দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ফাতেমা জোহরার মেয়ের কিডনি নষ্ট হবার পরে তিনি নিজেই একটি কিডনি দেন তার মেয়েকে। কিন্তু এক বছর পরে তার সেই কিডনি বিকল হয়ে যায়। যার ফলে আবারও কিডনি দরকার হয় তার মেয়ের। তখন কিডনির ব্যবস্থা করতে পারলেও আইনি বাধার কারণে দিতে পারেনি সেই কিডনি। ব্যাপারটা ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের নজরে আসলে তিনি আইনের সংকীর্ণতাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থমূলক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিহাসের পাতায় নাম উঠে যায় ফাতেমা জোহরা এবং ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের।
সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ে আরো উল্লেখ করেন যাতে হাসপাতাল পর্যায়ে এই ইমোশনাল ডোনেশন পর্যবেক্ষণ ও কিডনি যাতে কেনাবেচা না হতে পারে সেই সম্যক বিষয় দেখার জন্য একটা প্রত্যয়ন বোর্ডে করার নির্দেশ দেন। ভারতে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয় তা জেনে দেখার ব্যাপারে কোর্ট পরামর্শ দেয়।