আমাদের তরুণেরা অনেক ক্ষেত্রেই ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে পিছিয়ে যায়। তরুণদের এই দুর্বলতার জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা এ টি এম মাহমুদ, যিনি ‘এটিএম স্যার’ নামে তরুণদের কাছে বেশি পরিচিত। তার সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন আফসানা রাত্রি মিশু
অন্যের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করার ভাবনা এলো যেভাবে
ভারতের ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে যখন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন অনেকেই আমাকে নিরাশ করেছিলেন, এই বলে যে দেশে চাকরির বড়োই অভাব, রেফারেন্স ছাড়া চাকরির আশা করা বোকামি। প্রথমেই মনটা ভেঙে গেলেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেওয়ার পর প্রায় একই সময়ে ১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়া পেলাম। ইংরেজিতে ভালো থাকার কারণে মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের কর্মকর্তারা সহজেই সন্তুষ্ট হতেন। ফলে ১২টি প্রতিষ্ঠান মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানই আমাকে সরাসরি ইন্টারভিউয়ের সময়ই জব কনফার্ম করে। কিন্তু চিন্তা করছিলাম আমার মেধা অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজে না লাগিয়ে, কীভাবে নিজে কিছু করা যায়। সেখান থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিই তরুণদের জন্য একটি ইংরেজি শেখার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার। যার মাধ্যমে তরুণরা পৌঁছে যাবে তাদের স্বপ্নের ক্যারিয়ারের দিকে।
মাত্র ২৬ বছরেই একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আমি সব সময় বিশ্বাস করি, মানুষের পরিচয় কাজে, সার্টিফিকেটে নয়। যখন সবাই নয়টা-পাঁচটা অফিস করত, আমি তখন লেগে থাকতাম নিত্যনতুন আইডিয়ার খোঁজে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে আরো ডেভেলপ করা যায়। যখন সাইফুর’স কোচিং সেন্টারে কাজ করতাম, তখন চমকপ্রদ আইডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করেছিলাম এবং এতে সামগ্রিক পরিসর বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়। এর ফলে মাত্র ২৬ বছর বয়সেই পরিচালক হিসেবে কাজ করি।
উদ্যোক্তা হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জিং পথটি কেন বেছে নিলেন?
যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্বে কাজ করতাম, তখন দেখলাম, চাইলেও সবকিছু নিজের মতো করা যায় না। অথচ আমি তরুণদের জন্য কাজ করতে চাই। সেই চিন্তা থেকেই ইংরেজিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, এটিএম’স (ATM's)-এর যাত্রা শুরু। যেখানে ইংরেজির বেসিকসহ অ্যাডভান্সড এবং IELTS-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো হয়। শুধু দেশেই নয়; কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করছে এটিএম’স। একেবারেই ভিন্নভাবে তরুণদের জন্য একটা বিশ্বস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। যার ট্যাগলাইন হলো ‘সততার চাদরে মোড়ানো প্রতিষ্ঠান’। এভাবেই এটিএম’স-এর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণে নিরন্তর ছুটে চলা।
ভবিষ্যত্ ভাবনা
এমন কিছু করার চেষ্টা করছি, যার মাধ্যমে মানুষ বহুকাল পর্যন্ত তার সুফল পেতে পারে এবং তা পূর্ণ হলেই নিজেকে সফল মানুষ ভাবব।