মকবুল সিন্ডিকেট পথে বসিয়েছে কয়েকশ তরুণীকে
পিনাকি দাসগুপ্ত
নাম তার মোহাম্মদ মকবুল হোসেন। চার সহযোগী নিয়ে তার ‘মকুবুল সিন্ডিকেট’। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানার গনিয়ারচর। এক সময় ছিলেন আদম ব্যবসায়ীদের সহযোগী। এক অর্থে দালাল। কিন্তু তাকে খুব বেশি দিন দালালি করতে হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়ে যান আদম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। রাজধানীর ফরিকাপুলস্থ এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সির তিনি স্বত্বাধিকারী। তাও প্রায় দশ বছর। মকবুল প্রচলিত নিয়মে বিদেশগামী লোকদের পাঠাতে গিয়ে খুব একটা সফলতা পাননি। তবে গত কয়েক বছর ধরে বেশি লাভের আশায় দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের প্রলুব্ধ করে বিদেশ পাঠানোর কাজটি শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি সফল। গত তিন বছরে মকবুল সিন্ডিকেট সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক শত দরিদ্র নারীদের বিদেশে পাচার করে আসছেন। এরই মধ্যে এ চক্রের পাঠানো তরুণীদের মধ্যে ১৮ জন দেশে ফিরে জানিয়েছেন তাদের কষ্টের কথা। এ তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার শারমিন জাহান। তিনি জানান, সম্প্রতি ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মকবুল সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম হোমিসাইডাল শাখা। এ চক্রের অপর চার সদস্য হলো—পারভেজ মাহমুদ. আনোয়ার হোসেন, সাদি হাসান, মাইনুদ্দীন ইসলাম পান্না।
অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার শারমিন জাহান বলেন, মকবুল সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন জেলার নিরীহ, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের ভালো চাকরি ও বেতনের লোভ দেখিয়ে বিদেশে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করে আসছিল। এছাড়া এই চক্রটি নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য বিদেশে পাঠানো কর্মীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জাল এবং ভুয়া ঠিকানায় তৈরি করে আসছিল।
তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি গত ২ ডিসেম্বর ফকিরাপুল এলাকায় মকবুল হোসেনের মালিকাধীন এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অফিসে অভিযান চালায়। তিনটি কক্ষে থাকা আলমারি ও ফাইল কেবিনেটে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫০০ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, শতাধিক জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জাল জন্ম নিবন্ধন ও কোর্স কমপ্লিশন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন জাল নথি।
অভিযান পরিচালনাকারী সিআইডির অর্গনাইজড ক্রাইমের হোমিসাইডাল শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন জানান, এই চক্রের মাধ্যমে পাচারের শিকার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় এক তরুণীর খালা অভিযোগ করেন, এ চক্রের দুই সদস্য পান্না ও তৈয়ব ১৭ বছর বয়সি তার বোনের মেয়েকে এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ৩০ বছর দেখিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাচার করে। অভিযোগে মকবুল হোসেন এবং দুই দালালের নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলার তন্তদকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মকবুলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডে আনা হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানি হবে।