বিএনপির রাজনীতি চোরাবালিতে ডুবে গেছে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি এখন ভুলের চোরাবালিতে ডুবে গেছে। বিএনপি কথায় কথায় বলে আন্দোলন হবে। কিন্তু দলটি বর্তমানে সংবাদ সম্মেলন আর নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। দেখতে দেখতে ১১ বছর কেটে গেছে, কিন্তু আন্দোলন হয়নি। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন দিশেহারা। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথায় কথায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন। অথচ বিএনপির আমলে ‘হাওয়া ভবন’ ছিল ‘খাওয়া’ ভবন। তারা পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের মুখে দুর্নীতির কথা শোভা পায় না। এ দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আর ক্ষমতায় আনবে না।

তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দল এখন ক্ষমতায়, মঞ্চ ভরা নেতা। দলে নেতা যত বাড়ছে, কর্মী তত কমছে। পোস্টার লাগানোর জন্য এখন আর নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। ভাড়া করে লোক এনে এখন পোস্টার লাগাতে হয়। ডিজিটাল ব্যানার আর বিলবোর্ডে ছবি টাঙ্গিয়ে নেতা হওয়া যাবে না।

দলের দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা বাঁচলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৭ কিলোমিটার খুলনা-মোংলা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব নদীর ওপর সেতু, ৫৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দপদপিয়া সেতু ও ৫৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চুনকুঁড়ি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এছাড়া আত্রাই ও আঠারোবাকী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বেলা ১২টায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। বক্তৃতা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মির্জা আযম এমপি, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, নারায়ণচন্দ্র চন্দ এমপি, আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি, আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের বিদায়ি সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী।

বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে তালুকদার আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক পদে এমডিএ বাবুল রানা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হারুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে তালুকদার আব্দুল খালেক ও শেখ হারুনুর রশিদ খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হন। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। এর আগে অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।