অপরাধী যে-ই হোক না কেন, শাস্তি পেতেই হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষায় সরকার আইনের শাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, শাস্তি তাকে পেতেই হবে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

মানবাধিকার ও নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে দেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকার ও নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে দেশবাসীকে জানাতে হবে কেননা অধিকার ও দায়িত্ব একে অপরের পরিপূরক। তাঁর সরকার শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব অপরাধকে আমাদের দমন করতে হবে। কারণ এই অপরাধীরা সমাজকে ধ্বংস করে। এ ব্যাপারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিতে ১৯৭৫ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, হত্যাকারীরা দম্ভ করে বলত তাদের কেউ বিচার করতে পারবে না। কারণ তাদের ‘ইনডেমনিটি’ (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমার মায়ের কি অপরাধ ছিল? কিংবা আমার দুই ভাইয়ের? তারা তো মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তাদের নবপরিণীতা বধূদের কি অপরাধ ছিল? আমার ছোট্ট ভাইটি ছিল ১০ বছরের।       কি অপরাধ ছিল তার?

দায়মুক্তির পর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে দুই জন খুনিকে পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য হিসেবে বসানো হয়েছিল। এক খুনিকে বিরোধীদলের নেতার চেয়ারেও বসানো হয়েছিল। আরেক খুনিকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করা হয়েছিল। যারা এভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল বা যারা লালনপালন করেছিল বা যারা খুনিদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছিল, তারাও কি একই অপরাধে অপরাধী ছিল না? অন্যায় অবিচার যারা প্রশ্রয় দেয় সেই দেশে বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে—এটা খুবই স্বাভাবিক। সেই অবস্থা থেকে দেশকে এবং জাতিকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে নিয়ে আসার কঠিন কাজটাই করে যাচ্ছি।