আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার শুনানির প্রথম দিনে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছিল তখন সেখানে হাজির ছিলেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি। আদালতে নির্বিকার বসেছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চি। খবর—বিবিসি ও আল-জাজিরার।
আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের যে প্রতিনিধিদল দ্য হেগে গেছে সু চি নিজেই সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল মামলার শুনানি শুরুর আগ মুহূর্তে মিয়ানমারের ঐহিত্যবাহী পোশাক পরে আদালতে হাজির হন সু চি। তবে আদালত কক্ষে প্রবেশের আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তাকে সাংবাদিকরা চিত্কার করে নানা প্রশ্ন ছুড়লেও কোনো জবাব দেননি। মিয়ানমারের পক্ষে আজ বুধবার আদালতে তিনি কথা বলতে পারেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জুরিস্ট কমিশনের একজন কমিশনার রিড ব্রোডি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আইসিজেতে এ ধরনের মামলায় সু চির মতো একজন শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার হাজির হয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনা পুরোপুরি নজিরবিহীন। এতে ভালো ফল আসবে না। মনে হচ্ছে, তিনি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক চেহারা দিতে চাইছেন। আমার মনে হয় না, বিচারকরা মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদের হাজিরায় আকৃষ্ট হবেন।’
গণহত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে সু চির প্রতি সাত নোবেলজয়ীর আহ্বান
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ নৃশংস অপরাধ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিতে মিয়ানমারের কার্যত সরকারপ্রধান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাত জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তারা হলেন, ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইরানের শিরিন এবাদি, ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী লাইবেরিয়ার লিমাহ গোউই, ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কাল কারমান, ১৯৭৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেদারল্যান্ডের মেইরিড ম্যাগুয়ার, ১৯৯২ সালে নোবেল বিজয়ী গুয়েতেমালার রিগোবার্তা মেনচু তুম, ১৯৯৭ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী জোডি উইলিয়ামস এবং ২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় কৈলাশ সত্যার্থী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই সাত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এক বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির প্রতি আমাদের আহ্বান, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যাসহ সব অপরাধ প্রকাশ্যে স্বীকার করুন। যে অপরাধ ঘটানো হয়েছে তার জন্য সেনা কমান্ডারসহ অং সান সু চিকে অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তারা আরো বলেছেন, শান্তির পক্ষের মানুষ হিসেবে আমরা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো পর্যায়ক্রমিক বৈষম্য বন্ধে সু চির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার, ভূমির মালিকানার অধিকার, মুক্তভাবে চলাচলের অধিকার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নোবেল বিজয়ীরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সু চির ব্যক্তিগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তার নজরদারির অধীনে গণহত্যার বিষয়টি স্বীকার করতে এবং এর নিন্দা জানাতে অনুরোধ করছেন।