মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। এ হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৬২ জন। একই সময়ে ৪৪৩ শিশু হত্যার শিকার ও ৬৮২ শিশু নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন ১৩ জন। এছাড়া এই ১১ মাসে নারী ও শিশুসহ ১ হাজার ৩৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থাটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জাতিসংঘসহ দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ রয়েছে। তবে সেসব উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নামে এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, দেশের সংবিধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে প্রতিটি মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছে। এজন্য একজন অপরাধী যত বড়োই অপরাধে জড়িত হোক তার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা প্রকট করে তুলেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ তৈরি করে দিয়েছে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতায় চরম উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, গত ১১ মাসে সারাদেশে ১ হাজার ৩৫১ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৯৪০ শিশু রয়েছে। এছাড়া ৪৪৩ শিশু হত্যার শিকার ও ৬৮২ শিশু নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় দ্রুত বিচারের অভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দুর্বৃত্তদের আরো বেশি বেপরোয়া করে তুলছে। গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও বহুল সমালোচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অনুরূপ ধারা রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, চলতি বছরের গত ১১ মাসে ১৩ জন গুমের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন ফিরে এসেছে আর এক জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারসহ মানবাধিকার নিশ্চিতের জন্য সরকার সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা এসব দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।