মায়াময় অভিজ্ঞতা

 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মাসুদ পথিকের দ্বিতীয় ছবি ‘মায়া :দ্য লস্ট মাদার’-এ নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন দেবাশিস কায়সার। চলতি মাসেই ছবিটি মুক্তি পাবে। এই ছবিতে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা জেনে লিখেছেন ফয়জুল আল আমীন

 

মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘মায়া’ চলচ্চিত্রটি দেবাশিসের প্রথম ছবি হলেও মিডিয়াতে তার পদচারণা অনেক দিন আগে থেকেই। মাত্র আড়াই বছর বয়সে চ্যানেল আইয়ে সৈয়দ বোরহান কবীরের ‘দ্বিতীয় পাতা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মিডিয়াতে তার অভিষেক। এরপর বিটিভিতে কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ উপস্থাপিত ‘সমারোহ’ এবং শিশু-কিশোরদের ঈদের বিশেষ নাটক ও গানে নিয়মিত অংশ নেন। অভিনয় করেন বিভিন্ন টেলিফিল্মে, তার মধ্যে নূরুল ইসলাম বিএসসি রচিত আবু আল সাঈদ পরিচালিত ‘বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান’ এবং ‘ইন্টারনেট বউ’ টেলিফিল্ম দুটি উল্লেখযোগ্য। মূলত গানের জগত্ থেকে সিনেমায় পা রাখা দেবাশিস গান শিখেছেন স্কুলজীবন থেকে। প্রথমে শিশু একাডেমিতে, তারপর ওস্তাদ সঞ্জীব দে’র কাছে পাঁচ বছর তালিম নেন। এর পর বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এ চার বছরের কোর্স করেন। সেখানে তিনি ছিলেন উচ্চাঙ্গ সংগীত ও নজরুলসংগীতের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী দেবাশিস বেতারে নিয়মিত গান করছেন। গান করছেন বিভিন্ন মঞ্চ ও টিভি চ্যানেলে। তার পড়াশোনা ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল স্কুল, বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’ বিইউপিতে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন দেবাশিস। ‘মায়া’-তে এলেন কীভাবে? উত্তরে দেবাশিস বলেন, ‘ছবিটিতে আমি যখন চুক্তিবদ্ধ হই, তখন আমার গ্র্যাজুয়েশনের শেষ পর্যায়। তাই একটা ঝুঁকি তো ছিলই। তবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের স্নেহ-প্রশ্রয় না থাকলে কাজটি আমার পক্ষে খুবই দুরূহ হতো। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ অভিনীত চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে আমি একজন কবি ও সাংবাদিক, নাম রায়হান। এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র যুদ্ধশিশু ড. মানবী, যিনি জন্মের পরই একটি সংস্থার মাধ্যমে দত্তক শিশু হিসেবে চলে যান ভারতের কলকাতায়। সেখানেই প্রতিপালিত হন। সুশিক্ষিত মানবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পরে যখন একসময় জানতে পারেন যে, তার প্রকৃত শিকড় বাংলাদেশে, তখন তিনি মায়ের খোঁজে এখানে আসেন। আমি তাকে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রিসিভ করি এবং গাইড হিসেবে তার কাজে সহযোগিতা করি। ক্রমে তার সঙ্গে বন্ধুুত্ব ও প্রেম হয়।’ প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন? জবাবে মৃদু হাসলেন। তার ভাষ্যে, ‘খুবই অভিনব ও বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন লোকেশনে কাজ করার সময় ভোরাতে উঠতে হতো। আমরা থাকি মিরপুর ডিওএইচএসে, ঢাকার একপ্রান্তে। এত ভোরে ওখান থেকে আসতে মাঝে মাঝে দেরি হতো। আর আমাদের সদা হাসিখুশি পরিচালক মাসুদ পথিক ভাইয়ের তখন ভিন্নমূর্তি। কাজের সময় তিনি ভীষণ সিরিয়াস আর কঠোর। তবে তার সঙ্গে কাজ করার সময় আমরা খুব এনজয়ও করেছি। তিনি খুব নির্ভরযোগ্য মানুষ। আর ঢাকার বাইরের লোকেশনে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। মেঘনা নদীপাড়ের গ্রাম, মেঘনার চরের গরুর বাথান, নদীতে ভাসমান নৌকার ওপর, কাদামাটি, ধানক্ষেত্র, জ্যোত্স্না রাত—সবই ছিল অপূর্ব সুন্দর। মোট কথা, গ্রাম বাংলার মায়াবী আবহ আমরা পুরোই ধরেছি এই ছবিতে। এক মাসের বেশি সময় শুটিং চলাকালে গ্রামের মানুষেরা আমাদের খুব কাছের আত্মীয় হয়ে উঠেছিলাম। খুব সহযোগিতা করেছেন সবাই। ছবির প্রায় পুরো ইউনিট সেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করেছি।’ ‘মায়া’র পরে আর কোনো ছবিতে কাজের প্রস্তাব এসেছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। দুটি ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব আছে। যদি হয়, যথাসময়ে জানাব।’