সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ হলো সামাজিক নৈরাজ্য

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

সৃজনশীল                                                                                                                                                       

৭। জনাব স্বপন দীর্ঘ দিন যাবত্ আফ্রিকায় কর্মরত ছিলেন। দেশে ফিরে আসলে তার ঘন ঘন ডাইরিয়া এবং জ্বর হয়। সাথে কাশিও দেখা দেয়। দীর্ঘ চিকিত্সার পরও সুস্থতার পরিবর্তে অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব করে , ধীরে ধীরে কর্মহীন হয়ে পড়ে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।

ক) সামাজিক নৈরাজ্য কী ?                                                                                                                                                                                      খ) বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণটি

বর্ণনা কর।                                                                                                                                            গ) জনাব স্বপন-এর সমস্যাটি বাংলাদেশের কোন সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে ? ব্যাখ্যা কর।                                                                                                      ঘ) জনাব স্বপন-এর সমস্যা মোকাবিলায় তার স্ত্রীর পদক্ষেপটি কি যথার্থ ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক) উত্তর : সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ হলো সামাজিক নৈরাজ্য।

খ) উত্তর : বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ হলো দারিদ্র। দরিদ্র মা-বাবার প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাবে শিশুদেরকে ভরণপোষণ দিতে পারেন না এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে পারেন না। ফলে সন্তান স্কুলে না যাওয়ায় তারা মনে করেন কোন পেশা বা কাজের মাধ্যমে এসব শিশু অর্থ উপার্জন করুক। শিশুদেরকে অল্প পারিশ্রমিকে কাজে লাগানো যায় বলে মালিক পক্ষও এদের নিতে উত্সাহী থাকে। এটাই বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের জনাব স্বপন এর সমস্যাটি এইচআইভি এইডস-এর সমস্যা। এটি বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যার একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।  এইডস হলো এইচআইভি ভাইরাসজনিত একটি প্রাণঘাতী ব্যাধি। যার পরিণতি একমাত্র মৃত্যু। আক্রান্ত ব্যক্তি যেকোনো সাধারণ ব্যধিতেই সহজে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি সমাজের অর্থনীতি , সামাজিক কাঠামো , চিকিত্সা ব্যবস্থা এবং অন্যসকল বিষয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এটি সামাজিক নৈরাজ্য ও সমস্যার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের জনাব স্বপন এইডসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্ত্রীর চলে যাওয়ার পদক্ষেপটি অমানবিক। কেননা তার স্বামীর জন্য এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল মানসিক সমর্থন। স্বপন-এর রোগের কোন চিকিত্সা না থাকলেও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার মাধ্যমে অনেকদিন সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল। কিন্তু এর জন্য বেশি প্রয়োজন ছিল স্ত্রীর উপস্থিতি। তার স্ত্রী এসময় তাকে ত্যাগ করে চলে গিয়ে অমানবিক ও অনৈতিক কাজ করেছে।

ঘ) উত্তর : আমি মনে করি জনাব স্বপন-এর সমস্যা মোকাবিলায় তার স্ত্রীর পদক্ষেপটি যথার্থ ছিল না। জনাব স্বপন এইডস রোগে আক্রান্ত হলেও কিছুদিন সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ ছিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে ত্যাগ করে চলে যাওয়ায় সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে দারুন মর্মবেদনায় মৃত্যুর দিকে এগুতে থাকে। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সবসময় সমবেদনা জানাতে হয় , তার পাশে থেকে তাকে সাহস যোগাতে হয়। যাতে সে মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হতে পারে। স্ত্রীর এসময় তাকে একলা রেখে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি। এটা তার অনৈতিক এবং অমানবিক কাজ হয়েছে। এইডস আক্রান্ত  ব্যক্তির কোন প্রতিষেধক নেই।  এই রোগ  দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে খুব সহজেই সে অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীর জন্য প্রয়োজন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার। আক্রান্ত রোগীকে সামাজিক পুনর্বাসন করা আবশ্যক। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিকট আত্মীয়দের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা। উন্নত জীবনমান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেকদিন সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে।