কদম বিল অতিথি পাখির অভয়াশ্রম!

পাখি প্রেমিদের ভিড়

কাজী শাহজাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

বেনাপোল থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর  এলকার দুর্গাপুর গ্রামের কদম বিলে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। পাখির কলতানে মুখরিত পুরো এলাকা। প্রতিদিন এ দৃশ্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন পাখিপ্রেমী মানুষ।

উপজেলার দুর্গাপুরের ৬৫ বিঘা জমিতে বিশাল জলাশয়ে কদম বিলে হরেক রকম পাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। গ্রামের লোকজনের সহযোগিতাই গড়ে উঠেছে পাখির এ  অভয়াশ্রম। দুর্গাপুর গ্রামের হাজি গোলাম মোর্শেদের বেড়িবাঁধের জলাশয়ে সরাইল, পানকৌড়ি, ডংকুর পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুগ্ধ হচ্ছে পাখিপ্রেমী মানুষ। প্রতি বছর শীতের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এ অভয়াশ্রমে আসছে।

এসব অতিথি পাখিকে কেউ যাতে ফাঁদ পেতে ধরতে না পারে তার জন্য এ গ্র্রামের মানুষ পাহারা দিচ্ছে। তাছাড়া শার্শা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও অতিথি পাখির তদারকি করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় আসে হাজার হাজার অতিথি পাখি আবার সকালে খাদ্যের সন্ধানে বের হয় ঝাঁকে ঝাঁকে। পাখির এ অভয়াশ্রম রক্ষায় গ্রামবাসী কাজ করছেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় পাখিপ্রেমী মানুষ।

স্থানীয় লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় অনেক পাখিপ্রেমী মানুষ এখানে আসতে পারে না।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ জানান, শীত এলে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসে। শার্শা উপজেলায় কয়েকটি অতিথি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। তবে উপজেলার অনেক স্থানে পাখি শিকারিরা ফাঁদ ও এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করে। ফলে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকছে। তবে কদম বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় পাখি সংরক্ষণে কাজ করা হচ্ছে।