গাইবান্ধা ও মীর্জাগঞ্জে রবিশস্য চাষে ঝুঁকছে কৃষক

ইত্তেফাক ডেস্ক

গাইবান্ধা ও মীর্জাগঞ্জে রবিশস্য চাষে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন। তারা মাঠে নেমে পড়েছেন দলবেঁধে। জেলার বিভিন্ন জমিতে এই চাষ শুরু করেছেন তারা। গত বছর বন্যা ও শাকসবজির চড়া দামের কারণে তারা রবিশস্য চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলায় রবিশস্য চাষে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন। তারা মাঠে নেমেছেন কোমর বেঁধে। ইতিমধ্যে জেলার ২৪ হাজার ১৭৩ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের চাষ হয়েছে। গতবছরের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং পেঁয়াজসহ শাক-সবজির চড়া দামের কারণে এবার রবিশস্য চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, রবিশস্য চাষের উপযুক্ত সময় ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ। এবার জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৮ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে রবিশস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সরেজমিনে কৃষকরা জানালেন, গত বছরের মাঝামাঝি দুই দফা বন্যার কারণে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উপরন্তু বর্তমান বাজারে পেঁয়াজসহ শাকসবজির দাম অনেক চড়া। তাই এবার কৃষকরা সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া গ্রামের কৃষক মোমেনা বেগম (৫০) বললেন, গত বছরের বন্যায় আমার এক বিঘা জমির রবিশস্য ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার শীতের সময় জমিতে মিষ্টি কুমড়া, বাড়ির আঙ্গিনায় লাউসহ নানা জাতের ফসলের চাষ করেছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা রবিশস্য চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : নিবিড় রবিফসল উত্পাদন কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে মীর্জাগঞ্জ উপজেলায় ৬ হাজার ৮০৯ হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৬৫ মেট্টিক টন। ইতিমধ্যে আমন ধানখেতে খেসারি ডাল বীজ বোনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পোকার আক্রমণ না দেখা দিলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ফসল উত্পন্ন হতে পারে বলে মীর্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন।