ঢাকার দুই সিটিতে ভোট জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে

সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আয়োজনের সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের। আগামী সপ্তাহে এ নির্বাচনের তপশিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর হোসেন এ তথ্য জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) এর সংশোধনী ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন ২০১৯ সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্তকরণ, নির্বাচন প্রশিক্ষণ বাজেটের প্রমিতকরণ নীতিমালা, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতিবেদন প্রকাশ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রকাশের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া চূড়ান্ত হলেও আরপিওর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

সচিব বলেন, জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। তবে, কত তারিখে ভোট হবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভা হবে। ঐ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ঐ সময় ভোটের তারিখ ও তপশিলের বিষয় জানা যাবে। তিনি জানান, ইভিএমে ভোট হতে হলে ভোটার সংখ্যা, ভোটকক্ষ সংখ্যা বিবেচনায় নিতে হবে।  কতখানি প্রস্তুতি, জনবল লাগবে—এসব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরে কারা প্রার্থী, ব্যালটে তা চূড়ান্ত হয়। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনুযায়ী ইভিএম কাস্টমাইজ করতে হবে, সে সময় হাতে রেখে ভোটের তারিখ করতে হবে। সেজন্য কমিশন সময় নিচ্ছে; আগামী সপ্তাহে কমিশন সভায় চূড়ান্ত জানতে পারবেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে ইসি। মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটের সিদ্ধান্ত হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারির মধ্যে ভোট করতে হলে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তপশিল ঘোষণা করতে হবে। সেক্ষেত্রে তপশিল নিয়ে আরেকটা কমিশন সভা হতে পারে। আর মার্চে ভোট করতে হলে ফেব্রুয়ারিতেই তপশিল হবে।

সীমানা নির্ধারণ আইনে কোন্ ধরনের পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসছে সেই বিষয় ইসি সচিব কিছু জানাননি। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনটির কিছু সংযোজন বিয়োজন হয়েছে। জনসংখ্যা, ভোটার, আয়তন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনা করে আইনের সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। কী কী পরিবর্তন এসেছে সেটা না থেকে বলতে গেলে ভুলবার্তা যাবে। তবে, বলা যায় বর্তমান আইনে ৯০ শতাংশ ঠিক রেখে ১০ শতাংশের মূলত পরিবর্তন এসেছে। আর আইনটিকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।