খুলনা ও চট্টগ্রামে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা। এদের মধ্যে খুলনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খুলনা অফিস জানায়, অনশনে বসা শ্রমিকদের মধ্য থেকে গতকাল বুধবার ১৫-১৬ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অনশন স্থানে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা। আন্দোলনে থাকা পাটকলগুলো হচ্ছে—ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল, কার্পেটিং জুট মিল ও জেজেআই জুট মিল।
কাঁথা-বালিশ, লেপ, কম্বল নিয়ে শ্রমিকরা মঙ্গলবার তীব্র শীতের মধ্যে কর্মসূচি পালন করেন। তাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে না ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। খালিশপুর জুট মিলের আমরণ অনশনরত ষাটোর্ধ্ব শ্রমিক সুলতান মিয়া বলেন, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যদি চাকরি করে টাকা-পয়সা না পাই, তাহলে অনশনে মরাও ভালো। মজুরি নেই, ঘরে খাবারও নেই। ছেলেমেয়েদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সার নিশ্চয়তা নেই। এভাবে কি জীবন চলতে পারে? একই মিলের শ্রমিক এম এ রাজু তার বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে লিখেছেন- ‘আমি একজন শ্রমিক। রক্ত দেব, জীবন দেব, তবু আমাদের সকল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।
প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের শ্রমিক কাদের মিয়া বলেন, কাঁথা-বালিশ নিয়ে মঙ্গলবার রাত কাটিয়েছি অভুক্ত থেকে। বুধবার রাতও চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনতে আসেনি। আমরা হয়তো এভাবে আন্দোলন করতে করতে মারা যাবো। অন্যরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধানে ঢাকায় মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শ্রমিকরা অনশন অব্যাহত রেখেছেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী বনিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন নিয়ে আন্দোলন করছে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর আমিন জুট মিল গেইট রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের লাগাতার আমরণ অনশন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার নিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, তাদেরকে আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে কেন্দ ঘোষিত এই কর্মসূচি থেকে পিছপা হবেন না। এই আন্দোলনে আছে তাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। আমিন জুট মিল সিবিএর দপ্তর সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনশন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। এখানে আমিন জুট মিলের চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এবং চট্টগ্রামের অন্যান্য ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা শামিল হয়েছেন।