মায়ের হাতে ভাপা পিঠা খাওয়া হলো না মুবিনের

ঢাকার ধামরাইয়ে অপহরণের পাঁচ দিন পর ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরের শিশু মুবিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। বুধবার ভোরে ধামরাইয়ের মঙ্গলবাড়ী গ্রামের পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মুবিন ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী গ্রামের প্রবাসী আবদুল করিমের ছেলে। গ্রেফতারকৃত ঘাতক আজিজুল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।

মুবিনের মা রওশন আরা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘বাইরে যাওয়ার আগে মুবিন আমার কাছে ভাপা পিঠা খেতে চেয়েছিল। ছেলের জন্য পিঠা তৈরিও করেছিলাম। কিন্তু তার আর পিঠা খাওয়া হয়নি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

জানা গেছে, গত শনিবার মুবিন নতুন জামা ও প্যান্ট পরে মায়ের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে যায় চকোলেট কিনতে। কিন্তু এরপর আর সে বাড়ি ফিরে আসেনি। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ঐদিন রাতেই ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মুবিনের এক স্বজন। সেই রাতেই তাদের টয়লেটের কাছে পাওয়া যায় একটি চিরকুট। এতে লেখা ছিল ‘মুবিনের কথা ২৪ ঘণ্টা স্মরণ রাখবে’।  চিরকুটে একটি মোবাইল নম্বরও লেখা ছিল।

এরপর সোমবার রাতে মুবিনের মামা সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। পরে পুলিশ ঐ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলবাড়ী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার আজিজুল ইসলামকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল সকালে মঙ্গলবাড়ী গ্রামের পাশের পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে মুবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আজিজুল ইসলামসহ অন্যরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মুবিনকে দোকানের পাশে একা পেয়ে অপহরণ করে। পরে মুবিন কান্নাকাটি করতে থাকায় ধরা পড়ার ভয়ে গলাটিপে শিশুটিকে হত্যার পর লাশ মঙ্গলবাড়ী গ্রামের পাশে পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।   

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, শিশু মুবিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।