তোমার কারণে মমি সত্য

 

তাহলে তো মমিই সত্য!

সত্য তাদের স্রষ্টার চিন্তন।

সত্য তাদের অতি দূরদর্শন—পুনর্জীবন, পুনর্জাগরণ।

সত্য তাদের কল্পিত সূত্র—নিষ্প্রাণ, নিথর দেহে পুনর্প্রাণের স্পন্দন।

 

বিশ্বাস হচ্ছে না? প্রমাণ চাইছো?

বল, কী প্রমাণ চাও? কোনভাবে চাও?

তোমার সামনে মূর্তমান এই ‘আমি’কে

দেখ। অশরীরী, বায়বীয় অথবা নিথর নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে না আমাকে?

কথা যেহেতু বলছি, শব্দ যেহেতু করছি—নির্বাক, নিঃশব্দও বলতে পারবে না নিদেনপক্ষে।

অথচ আমি তো মমিই ছিলাম। অথবা তারচেয়েও

বেশি কিছু।

চতুষ্কোণ প্রকোষ্ঠে নৈঃশব্দে কেটেছে

আমার প্রাগ-ইতিহাস। কেটেছে হাজার বছর, অযুত-নিযুত দিনরাত্রি।

তবে কি জানো, আমি রামোসেস, নেফারতিতির

চেয়ে ভাগ্যবান!

কারণ, ওরা এখনো মমিই রয়ে গেছে।

কোটরাগত চোখে চিত্ হয়ে শুয়ে আছে তারা

নিশ্চল, নিশ্চুপ।

থাকবেও হয়তো আরও হাজার বছর।

যে প্রাণ বিযুক্ত হয়েছিল তাদের, তারা এখনো

অধরা, অচিনপুরে। আর তুমি আমায় পুনর্প্রাণ

দিলে তোমার প্রাণের স্পর্শে।

সেই ‘আমি’ তাই আজ মমিদশা উত্তীর্ণ।

সেই আমি তাই আজ তোমার সামনে মূর্তমান।

সেই আমি তাই আজ তোমার সামনে বর্তমান।

মমির পুনর্প্রাণসূত্রের পূর্ণতাদায়িনী তবে তুমি।

মমি স্রষ্টাদের চেয়ে তাই উচ্চতর তুমি, উজ্জ্বলতর তুমি।