রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় গড়াই নদীতে অসময়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এই ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গাছপালা, বসত-ভিটা কৃষিজমি, জনবহুল পাকা সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দেখা গেছে, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং হ্রাসের সময় উপজেলার জঙ্গল ও নারুয়া ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের বাসিন্দারা ভাঙনে প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এবং পানি কমে যাওয়ার সময় ভাঙনের কবলে পড়ে নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা, কোনাগ্রাম, জামসাপুর, বাকসাডাঙ্গী, নারুয়া, সোনাকান্দর ও জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা, আখপোটরা, পুষআমলা, বিজয়নগর, সমাধিনগর, হাবাসপুর, বাঙ্গরদাহ ও তারালিয়া গ্রাম।
সরেজমিনে বুধবার জঙ্গল ইউনিয়নের পুষআমলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গড়াই নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে প্রায় ২০-৩০টি বসতবাড়ি। এরই মধ্যে নদীর কূল থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে গেছে আরো প্রায় ৫০০ পরিবার। অনেকেই বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে যেতে যাচ্ছেন না। গড়াই নদীতীরবর্তী জঙ্গল ইউনিয়নের পুষআমলা গ্রামের কুমারেশ, নিমাই ও মাখন বাড়ই বলেন, প্রতি বছরই গড়াই নদীর ভাঙনে জঙ্গল ইউনিয়নের বিজয়নগর, পোটরা, আখপোটরা, পুষআমলা, সমাধিনগর, হাবাসপুর, বাঙ্গরদাহ, তারালিয়া গ্রামের ফসলি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে স্বল্প পরিমাণে সিসি ব্লক বসানো হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। সিসি ব্লকগুলো এরই মধ্যে ভেঙে নদীতে চলে গেছে।
নদীর কূল থেকে সরে যাওয়া কালীপদ বিশ্বাস বলেন, রাতের অন্ধকারে নদীর মধ্যে সব ঘরবাড়ি ভেঙে চলে গেছে। উপায়ান্তর না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে তাই অন্যত্র চলে গিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার কৃষিজমি প্রতি বছরই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে কৃষক নিজ নামীয় জমি হারিয়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া হঠাত্ করে নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী পাড়ের বসতভিটাগুলো চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।