তন্ময় তানসেন। মিউজিক দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু হলেও মাঝে ভিজ্যুয়াল ফর্মে ব্যস্ত ছিলেন ভীষণ। সেখানেও এসেছে সাফল্য। চুটিয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণের কাজ, নাটক, চলচ্চিত্রের কাজ করেছেন। কিন্তু আবারো থিতু হতে চাইছেন মিউজিকে। এ সময়ের জনপ্রিয় রকব্যান্ড ভাইকিংসের এই প্রধান ভোকাল কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ
কেমন আছেন? আবারো গানের ভেতরে আসাটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা দেবেন। আগের কাজগুলোতে বিরক্তি ছিল?
না, তা বলবো না। আসলে যতখানি বা যতদিন কাজ করেছি মনের তাগিদ আনন্দ থেকেই কাজ করেছি। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের আক্ষেপ নেই। তবে টিভি নাটক বা সিনেমার যে অবস্থা তাতে কোনো আশা আমি দেখি না। নিশ্চয়ই এই পথ কোনো সময় আলো দেখাবে। কিন্তু আমি গান নিয়েই ভীষণভাবে থাকতে চাই।
দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ফেরা। কনসার্ট বা অডিওতে সেক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে না?
হুম, প্রায় ১১ বছর পর ফিরল ভাইকিংস। সেক্ষেত্রে আমি বলবো আমাদের যে এমন দারুণ কিছু শ্রোতা তৈরি হয়ে আছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই কিন্তু এই ফেরা। আর আমরা নিজেদের কাজের প্রতি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।
এখন রকগানের শ্রোতা কম, মাঠে ফ্রি কনসার্টের জোয়ার। এসব প্রতিবন্ধকতা মনে করেন?
অবশ্যই মনে করি। কিন্তু শ্রোতা-দর্শক কম এটা ঠিক না। আমাদের অভ্যেসটা অন্যরকম হয়ে গেছে। এই আমাদেরই এটা বদলাতে হবে। এই যেমন মাইলসের ৪০ বছর পূর্তিতে আমরাও বাজাবো। সেটা কিন্তু মাইলস চাইলেই ফ্রি কনসার্ট করতে পারতো। তা কিন্তু করেনি। আমি মনে করি এটা একটা বড় উদ্যোগ। এভাকে বদলাবে সবকিছু।
আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে অসাধারণ একটি ট্রিবিউট গান করলেন ‘ঈশ্বর’ শিরোনামে। আপনার একক জীবন বা ভাইকিংস-এর ক্যারিয়ারে একজন আইয়ুব বাচ্চুর ভূমিকা কতটুকু?
এটাতো বলে শেষ করা যাবে না। শুধু একটি ঘটনা বলি। কণ্ঠশিল্পী রিপ্পি (প্রয়াত) আমাকে প্রথম নিয়ে যায় বাচ্চু ভাইয়ের অফিসে। তখন আমাকে কেউ কেউ চেনে না। অথচ বাচ্চু ভাই যেভাবে আমাকে উত্সাহ দিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সেই থেকে মৃত্যুর আগ অবধি তিনিই ছিলেন আমাদের একান্ত অভিভাবক। আর শুধু ভাইকিংস না, এদেশে এত এত মিউজিশিয়ানদের শুধু আদর করে তাদের মিউজিকের প্রতি আস্থা দিয়েছেন আমাদের এবি।
ভাইকিংসের গান কম রিলিজ হয়। স্টেজেও অতিমাত্রায় না। এটার কোনো যুক্তি আছে?
অনেকে হয়তো অনেক রকম কথাই বলবে। বাট আমি একটা কথা বলতে চাই, আজ থেকে ১১ বছর আগে মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠে এলআরবি আর ভাইকিংস গেয়েছিল। সেসময় যে পেমেন্টে পারফর্ম করেছে ভাইকিংস ১১ বছর পর দেখি আমাদের চেয়েও সিনিয়র ব্যান্ড তার কম টাকায় স্টেজে উঠে যাচ্ছে। এই অবক্ষয় দেখতে চাই না আমরা। তাই আমরা নিজেদের আত্মসম্মান ও কোয়ালিটি দুটো ঠিক রেখেই নিয়মিত কাজ করে যাবো। ভাইকিংস এখন শ্রোতা-দর্শকদের সামনে নিয়মিত থাকবে।
ভাইকিংসের আগামী পরিকল্পনা নিয়ে একটু বলুন...
আমরা সপ্তাহে ২ দিন নিয়মিত প্র্যাকটিস করছি। সামনে একটানা অনেকগুলো শো। পাশাপাশি ডিসেম্বরে নতুন একটি গান উপহার দেওয়ার। আমরা মিউজিকের বাইরে কিছুই ভাবছি না।