নগরীর মাদারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তারকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক ব্যবস্থাপত্রে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে বলেছেন। তিনি হাসপাতালের ল্যাবে গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান—এখন সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ। এক মাসের মধ্যে সিরিয়াল পাওয়া যাবে না। বরং বাইরের কোনো ল্যাব থেকে করিয়ে নেন। ল্যাবের এক কর্মচারী তাকে ম্যাগনাম ল্যাবের একটি ঠিকানা ধরিয়ে দেন। ইতিপূর্বে যারা সিরিয়াল নিয়েছেন তারাও ঘোরাঘুরি করছিল। কারণ, আলট্রাসনোগ্রাফি করার একমাত্র চিকিত্সক কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
জানা যায়, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে একটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, একটি এক্সরে মেশিন ও একটি এমআরআই মেশিন। আলট্রাসনোগ্রাফি করানোর জন্য হাসপাতালে স্থায়ী কোনো চিকিত্সক নেই। প্রেষণে কর্মরত একজন চিকিত্সক তা করছেন। প্রতিদিন ১৫-২০টি আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তবে রোগীর চাপ আরো বেশি। নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীকে সিরিয়াল দিয়ে বাকিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে রয়েছে হূদেরাগ শনাক্তকরণে একটি ইকোগ্রাম মেশিন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক মাস ধরে এটি অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ও বহির্বিভাগের রোগীরা। ফলে রোগীদের বাইরের ল্যাবে গিয়ে এসব পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিত্সক ডা. এইচ এম শফিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ইকোগ্রাম মেশিনের সমস্যা দেখা দেয়ায় তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সচল থাকা অবস্থায় প্রতিদিন সাত-আটটি পরীক্ষা হতো। হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি গত দুই মাস ধরে অচল আবস্থায় রয়েছে। মেশিনের কী সমস্যা হয়েছে তাও চিহ্নিত হয়নি। ২০১৪ সালে মেশিনটি বসানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্মরত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট লিয়াকত আলী ইত্তেফাককে বলেন, এমআরআই মেশিনের সমস্যা তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে দুইবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
জেনারেল হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মেশিন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সীমিত যেসব মেশিন রয়েছে তাতে প্রায় সময় সৃষ্ট নানা ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। মেশিন ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চিকিত্সকের সংকট রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাফি ও ইকোগ্রাম পরীক্ষা করার জন্য এক জন করে চিকিত্সক কর্মরত রয়েছে। এতে সেবাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ ইত্তেফাককে বলেন, এমআরআই মেশিন নষ্ট বলা যাবে না। মেশিনটিতে বিদ্যুত্ সাপ্লাইয়ের সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে মেরামত করতে হবে। আমরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। ইকোগ্রাম মেশিনের ইউপিএসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার আরো মেশিনের প্রয়োজন। এই ব্যাপারে গুরুত্ব তুলে ধরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে।