তাড়াশে বাড়ছে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন!

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

তাড়াশে ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে উর্বর ফসলি জমি কেটে চলছে পুকুর খননের কাজ। এতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিজের মুখ। আর দখল হচ্ছে খাল-নয়নজুলি। এদিকে মাটিবাহী ট্রাক চলাচলে সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আট ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫০টির মতো পুকুরের খননকাজ চলমান রয়েছে। পৌর শহরের কাউরাইল ও সোলাপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠেই চলছে ১৫টি পুকুর খনন। নওগাঁ ইউনিয়নের কালুপাড়া ভায়াট মাঠেও এর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। পুকুর খনন করতে গিয়ে জমি মালিকরা অনেকেই গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ব্রিজের মুখে মাটি দিয়ে পাড় বেঁধে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দখল করে নিয়েছেন সরকারি খাল ও নয়নজুলি। আর গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে অবাধে মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় মাটি পড়ে ও ধুলার আস্তরণে সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ভয়ে দিনের আলোতে অধিকাংশ পুকুরের খননকাজ বন্ধ থাকলেও রাতভর চলে।

জমি মালিক কাজেম আলী, হারেছ উদ্দিন, সাজেদুল ইসলাম, আশরাফুল আলম ও আরশেদ আলী জানান, ফসল উত্পাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন তাদের মতো অনেকেই। এসব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা অর্থের বিনিময়ে মত্স্য চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুন্নাহার লুনা জানিয়েছেন, তাড়াশে ছোটো-বড়ো ৫ হাজারের মতো পুকুর থাকার পরেও প্রতি বছর আশঙ্কাজনক হারে সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ক্রমান্বয়ে জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে তেমনি পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে মাছ চাষ ও বসতভিটা করা হচ্ছে। এতে হুমকিতে রয়েছে ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানাও করা হয়েছে।