বগুড়া স্বাস্থ্যবিভাগ
মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
পদোন্নতি পেয়ে একসঙ্গে ৯ জন চিকিত্সক অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় ২৫০ শয্যার বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সার্জারি বিভাগ চিকিত্সকশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে ঐ হাসপাতালে ১২ দিন ধরে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। শূন্য হয়ে পড়েছে চক্ষু ও শিশু বিভাগ।
অন্যদিকে, একসঙ্গে ১৫ চিকিত্সক বদলি হয়ে যাওয়ায় জেলার সরকারি ১৮টি হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সার্জারি চিকিত্সক এবং অ্যানেসথেসিস্ট পদে চিকিত্সক না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে কাহালু ও শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিত্সকের পদ রয়েছে ৭৩টি। বর্তমানে শূন্য পদ ৩৩টি। সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে একসঙ্গে ৯ চিকিত্সক বদলি নিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। এখন জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদই শূন্য। এ ছাড়া সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১১টি পদের মধ্যে দুইটি পদ শূন্য রয়েছে।
গত মঙ্গলবার অ্যাপেনডিকসের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন গাবতলীর দুর্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলাম। দুদিন ভর্তি থাকার পর সার্জারি চিকিত্সক না থাকায় তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য হাসপাতালে যান। শহিদুল বলেন, হাসপাতালে চিকিত্সক নেই। অপারেশন বন্ধ।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, একসঙ্গে ৯ জন চিকিত্সক পদোন্নতি পেয়ে চলে যাওয়ায় সার্জারি বিভাগে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অবেদনবিদ পদ শূন্য হলেও একজন চিকিত্সা কর্মকর্তাকে দিয়ে এই কাজ চালিয়ে সীমিতসংখ্যক প্রসূতি মায়ের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও চক্ষু বিভাগে চিকিত্সক না থাকার কারণে সেবাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় ১৮টি হাসপাতালে ৩৩০টি চিকিত্সক পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪১টি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কর্মরত চিকিত্সকের সংখ্যা মাত্র ৮৯ জন। বেশির ভাগ পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তিনটি ২০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, একটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং একটি স্কুল হেলথ ক্লিনিক রয়েছে। এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ থেকে ১৫ জন চিকিত্সক পদোন্নতি পাওয়ায় ৩০ নভেম্বর থেকে এসব পদ শূন্য। এ ছাড়া জেলায় আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তার (আরএমও) ১৪টি পদের সব কটিই শূন্য। ২০ শয্যার সান্তাহার, নন্দীগ্রাম ও আলিয়ারহাট বিশেষায়িত হাসপাতালে ছয় জন করে চিকিত্সকের পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র এক জন করে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং স্কুল হেলথ ক্লিনিকে দুটি করে পদ থাকলেও চলছে একজন করে চিকিত্সক দিয়ে।
এ ব্যাপারে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘১৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট একসঙ্গে চলে যাওয়ায় চিকিত্সক-শূন্যতার কারণে কাহালু ও শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সদ্য নিয়োগ পাওয়া বেশ কিছু চিকিত্সককে বগুড়ায় পদায়ন করা হয়েছে। তারা এখনো যোগদান করেননি। যোগদান করলে সংকট কিছুটা কাটবে।’