বোরো আবাদ নিয়ে সংশয়
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুরে বুড়ুলিয়া খালের মুখের বাঁধ আপারভদ্রা নদীর পানির চাপে ভেঙে যাওয়ায় তিন ইউনিয়নের ১০টি বিলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন বোরো মৌসুমে বিলগুলোতে বোরো আবাদ হবে কি না তা নিয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
জানা গেছে, উপজেলার মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের ১৫ থেকে ১৬ গ্রামের বর্ষার অতিরিক্ত পানি বুড়ুলিয়া খাল দিয়ে আপারভদ্রা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। এদিকে চলতি বছর আপারভদ্রা নদী খননকালে বুড়ুলিয়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে পুনঃখনন কাজ শুরু করে। ফলে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যায়। ঐ বাঁধের কারণে বিলগুলো জলাবদ্ধ থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় হলেও এখনো কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারেননি।
বুড়ুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্বাস মোড়ল জানান, জলাবদ্ধ বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনে যখন এ অঞ্চলের কৃষকরা ঘের-মালিকদের নিয়ে আন্দোলন, সভা, সমাবেশ করে চলেছে ঠিক তখনই ১১ ডিসেম্বর রাতে আপারভদ্রা নদীর অতিরিক্ত পানির চাপে বুড়ুলিয়া খালের মুখের বাঁধ ধসে যায়। সুফলাকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মঞ্জুর রহমান বলেন, আপারভদ্রার সন্ন্যাসগাছা থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার নদী ভরাট হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাথরা স্লুইস গেটে জরুরিভাবে বিলের পানি নিষ্কাশনে ঘের-মালিকদের সঙ্গে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিষ্কাশন না হলে কৃষকরা আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ‘এখন বোরো বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। গত উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় বিলের পানি সরানোর দাবি জানিয়ে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হলে কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারবে না।’
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সী আছাদুল্লাহ বলেন,‘ঐ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা শুনেছি। কৃষকদের দাবির মুখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য গত ১১ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমামের নেতৃত্বে পানিবিশেষজ্ঞরা আপারভদ্রা নদী পরিদর্শন করেছেন। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে।