বোরহান বিশ্বাস
রাজধানীতে প্রতিনিয়তই শব্দদূষণ ঘটছে। গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল চালানোর সময় মুহূর্তে মুহূর্তে হর্ন বাজানো যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কানের কাছাকাছি যেমন মাথা থাকে, তেমনি স্টিয়ারিংয়ের একেবারে কাছে থাকে হর্ন। তাই সামান্য যানজটেই হাত চলে যায় হর্নের সুইচে। উচ্চ শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হয়। সৃষ্টি হয় শব্দদূষণ। যার নির্মম শিকার হচ্ছে শিশুরা।
রাস্তায় সবারই তাড়া থাকে। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই দ্রুত যান চালান অনেকে। ক্ষণে ক্ষণে ব্রেক চাপা আর হর্ন। সরু গলি কিংবা প্রশস্ত রাজপথ সবখানেই চলছে শব্দদূষণের প্রতিযোগিতা। এর জন্য নির্দিষ্ট আইনও আছে। মোটরযান আইন ১৯৮৮-এর ১৩৮ ধারায় উল্লেখ আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কিংবা মোটরগাড়ির মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোটরযানে এমন ধরনের হর্ন বা শব্দ উত্পাদনকারী যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করেন, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ এ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করেছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অনুরূপ হর্ণ বা যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করেন, তবে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।’ তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও রাজধানীতে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এখনো উচ্চ শব্দে হর্ন বাজে রাস্তায়। এক্ষেত্রেও মানা হচ্ছে না এলাকাভিত্তিক নির্দেশিকা। এর বিরুদ্ধে শুধু মামলা দিয়েই দায় সারছে ট্রাফিক পুলিশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা গেছে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবল ছাড়িয়ে গেছে। যা স্বাভাবিক মাত্রার চাইতে আড়াই থেকে তিনগুন বেশি।
মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে উঠে আসে। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চরক্তচাপ, হূদরোগ, ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা।
গাড়ির ভেতর অথবা হেলমেট মাথায় থাকা অবস্থায় উচ্চ শব্দ বোঝা কঠিন। রাস্তা পারাপারে প্রচণ্ড শব্দে শিশুদের দুহাতে কান চেপে ধরা, শব্দজনিত কারণে হঠাত্ উত্তেজিত হয়ে পথচারী কর্তৃক চালককে উদ্দেশ্য করে কিছু বলার মধ্য দিয়ে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানোর বিরক্তির কারণ ফুটে উঠতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ঢাকা