প্রজন্মের চেতনার মানববন্ধন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
একাত্তর সালে সংঘটিত মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহিদদের স্মরণে ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা স্মরণস্তম্ভ এবং যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের ঘৃণিত হিসেবে চিহ্নিতের লক্ষ্যে ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে আত্মদায়বদ্ধ সামাজিক সংগঠন প্রজন্মের চেতনা। সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় এমন দুটি বিশেষ স্তম্ভ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেছে প্রজন্মের চেতনা।
মানববন্ধনে প্রজন্মের চেতনার আহ্বায়ক মোহাম্মদ গোলাম নবী হোসেন বলেন, একাত্তর সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এখনো অনেক বিভ্রান্তিতে ভরা। প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নাগরিক কমিশন গঠন করতে হবে। ঐ কমিশনের দায়িত্ব হবে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
বীরপ্রতীক আনোয়ার হোসেন বলেন, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল দেড় লাখ যোদ্ধা। কিন্তু এখন নাকি আড়াই লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছে। এরা কোথা থেকে এলো, কীভাবে এ ভাতা নিচ্ছে। এ সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে বাদ দেওয়া হোক।
বীরপ্রতীক নাজিমুদ্দিন গেরিলা বলেন, আমি চাই না আমার মৃত্যুর পর আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হোক। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ। আমাদের জীবদ্দশায় আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হইনি। জুটেছে শুধুই নিগ্রহ যন্ত্রণা। তাই চাই না শুধু মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হোক। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা সব সময় গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তাই তাদের জন্য ঘৃণাস্তম্ভ তৈরি করা উচিত।
মানববন্ধনে উপস্থিত ভাস্কর রাশা বলেন, স্মরণস্তম্ভ ও ঘৃণাস্তম্ভ আমাদের একটি যৌক্তিক দাবি। প্রজন্মের চেতনার মাধ্যমে আমরা বলতে চাই যে, প্রতি বছর যেন এই স্মরণস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ঘৃণাস্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ঘৃণা জানানো হয়।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রজন্ম চেতনার সদস্য সালেকুর রহমান সুমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এআইজি মালেক খসরু, বীরপ্রতীক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বীরপ্রতীক আনোয়ার হোসেন, ফজলুর রহমান, সাঈদ অপু, শাজাহান কবীর সুমন, এম এম রাশেদ রাব্বি, অরন্য জুয়েল, মাসুদ আলম, জালাল হোসেন লাইজু প্রমুখ।