স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফরে ইডেন টেস্টে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুরুর আগেই ব্যাটিংয়ে নেমে গিয়েছিলেন। চোটের ধাক্কা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও জাতীয় দলের ফিজিও’র ছাড়পত্র না পাননি তিনি। তাই বিপিএলের শুরু থেকে মাঠে নামতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।
নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে ছাড়াই বিপিএলে দুটি ম্যাচ খেলেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জয় দিয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে গেছে দলটি। চট্টগ্রাম শিবিরের জন্য সুখবর অবশেষে মাহমুদউল্লাহকে ফিরে পাচ্ছে তারা। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে খেলবে চট্টগ্রাম। এই ম্যাচ দিয়েই ফিরছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। মাঠে ফেরার সঙ্গে নেতৃত্বের ভারও পালন করবেন তিনি।
মাহমুদউল্লাহর ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের ম্যানেজার ফাহিম মুনতাসীর সুমিত। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ফিটনেস টেস্টে ও পাশ করেছে, আমরা অফিসিয়ালি পেয়েছি। কালকের (আজ) ম্যাচে তাকে আমরা পাচ্ছি। শতভাগ ফিট।’
শুধু অধিনায়ক নন, মাহমুদউল্লাহ একজন কার্যকর অলরাউন্ডার। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফস্পিনও করেন তিনি। তার ফেরার অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রাম। গতকাল দলটির লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন বলেছেন, ‘রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই ফিরে আসাটা আমাদের জন্য অনেক বড়ো পাওয়া হবে, যেহেতু আগের ম্যাচে হেরেছি। তিনি ফিরবেন, ভালো করবেন, দলও কামব্যাক করবে সে আশায় আছি। রিয়াদ ভাই আজ (গতকাল) ব্যাটিং করল, বোলিং, ফিল্ডিং মিলিয়ে খুব ফিটই লেগেছে।’
প্রথম ম্যাচে সিলেটকে হারিয়েছিল চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের কাছে হেরে গেছে তারা। আজ রংপুরের বিপক্ষে জয়ের ধারায় ফিরতে মুখিয়ে থাকবে চট্টগ্রাম। ম্যাচটি রংপুরের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লার কাছে বাজেভাবে হেরেছিল রংপুর। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার মিশনেই নামবে রংপুর। তবে বল হাতে সুশৃঙ্খল হতে হবে রংপুরকে। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকবে দলটি। অবশ্য তাদেরকে সবচেয়ে বড়ো উন্নতি আনতে হবে ব্যাটিংয়ে। কুমিল্লার বিপক্ষে মাত্র ৬৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল রংপুরের ইনিংস। মোহাম্মদ নবির নেতৃত্বাধীন দলটাকে সর্বোপরি ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠতে হবে।
এবার একাদশে লেগ স্পিনার খেলানোর নিয়ম করেছিল বিসিবি। যদিও সেই নিয়ম মানতে দেখা যাচ্ছে না সব দলকে। চট্টগ্রাম যেমন দুই ম্যাচের একটিতেও একাদশে রাখেনি লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে।
অবশ্য সুযোগ না পেলেও হতোদ্যম নন এই তরুণ লেগ স্পিনার। অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। গতকাল লিখন বলেছেন, ‘সামনে অনেকগুলো ম্যাচ আছে, চট্টগ্রামের হয়ে আরো ১০ টা ম্যাচ বাকি। নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করতে হয় সেভাবেই করেছি, অপেক্ষায় আছি। মাঠে নামার সুযোগ পেলে এতদিন যে কষ্ট করেছি সেটা প্রয়োগ করতে চাই, নিজের সেরাটা দেওয়ার।’
নিজের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য বাড়াতে কাজ করছেন লিখন। তিনি বলেছেন, ‘আসলে আমি অ্যাকুরেসি নিয়ে কাজ করছি, অ্যাকুরেসিতে যতটুক পারি উন্নতি করা যায়। এছাড়া ভ্যারিয়েশন নিয়েও যে কাজগুলো করা যায় সেসব করছি। সবকিছু মিলিয়ে আমিও আল্লাহর রহমতে প্রস্তুত, সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’