আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিপ্রায়ে সংঘটিত নৃশংস অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পশ্চিম আফ্রিকার ছোটো দেশ গাম্বিয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত ১০-১২ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সম্প্র্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য মিয়ানমারের অভিযুক্ত দোষীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আইসিজেতে মামলার শুনানি পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলো পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। এই মামলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গাম্বিয়াকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করেছে। প্রতিনিধি দলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান যোগ দেন। গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমারের মামলার শুনানি ১০ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১২ ডিসেম্বর শেষ হয়। ১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগের স্বপক্ষে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন। ১১ ডিসেম্বর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমারের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ১২ ডিসেম্বর প্রথমে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি খণ্ডন ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন। এরপর অং সান সুচি এবং তার আইনি টিম যুক্তি দেয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং মর্যাদার সাথে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রতিনিধি দলট জবাবদিহিতা এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে।
আদালতের উপস্থিতির পাশাপাশি পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী এবং আইনজীবীদের দল এবং রোহিঙ্গা বিষয়ে কানাডার বিশেষ দূত বব রাইয়ের সম্মানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া যৌথভাবে আয়োজিত একটি সংবর্ধনায় যোগ দেয় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। এ সময় বব রাই রোহিঙ্গাদের প্রতি উদারতার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া-প্যাসিফিক) মাসুদ বিন মোমেন, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান, ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গাওসুল আযম সরকার, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল প্রমুখ।