চীনা নাগরিক হত্যাকাণ্ড

হত্যার পর সন্দেহভাজন ঘাতক চলে গেলেন চীনে

রাজধানীর বনানীতে চীনা নাগরিক জিয়ানহু গাউ (৪৮) হত্যার রহস্যজট খুলতে তার আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজারকে খুঁজছে পুলিশ। জিয়ানহু হত্যার চার ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় ঐ কান্ট্রি ম্যানেজার বাংলাদেশ ত্যাগ করে চীনে চলে গিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জিয়ানহু গাউ হত্যার শিকার হন। পুলিশ ধারণা করছে, চীনা নাগরিকের প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনার পর চীনা নাগরিকের বান্ধবী পাথর ব্যবসায়ী লিউ সিসিকেও গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বান্ধবী লিউ সিসি বনানীর ২৩ নম্বর রোডের ৮২ নম্বর বাড়িটি মাসিক ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভাড়া করিয়ে দেন। লিউ সিসি জানিয়েছেন, পাথর সাপ্লাই ও বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী সরবরাহে জিয়ানহুর সঙ্গে বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিকের দ্বন্দ্ব রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ এই তথ্যের সূত্র ধরে ধারণা করছে,            চীনা নাগরিক তার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে খুনের শিকার হতে পারেন।

এই হত্যাকাণ্ডে গত বৃহস্পতিবার জং সু হং নামে এক চীনা নাগরিক বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। বাদী উত্তরার সুমেক লিয়াজোঁ অফিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার। এজাহারে তিনি বলেন, ‘আমরা গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গাওয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় তার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু কেউই তার খোঁজ দিতে পারেননি। এরপর আমি উত্তরা থেকে বনানীতে তার ফ্ল্যাটে যাই। এ সময় সেখানকার কয়েকজন আমাকে বলেন, ভবনের উত্তর পাশে একজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ও সিআইডিকে জানালে তারা লাশ উদ্ধার করে জানতে পারেন তিনিই জিয়ানহু গাও।’ এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার দিনই আটক তিন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, জিয়ান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন দেশি ও বিদেশি একাধিক পার্টনারকে খোঁজা হচ্ছে। যাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তারা ধারণা করছেন। এরই মধ্যে নিহতের স্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশীয় লোকজনসহ চীনা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী ২০১৬ সাল থেকে জিয়ানহু গাও বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসময় তার সঙ্গে দেশীয় বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থান করা  অনেক চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিভিন্ন ব্যবসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।