৪৮ কোটি টাকার গ্যাস চুরির দায়ে বন্ধ মুন্সীগঞ্জের ফিলিং স্টেশন

র্যাবের অভিযানে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে র্যাবের অভিযান চলে। অভিযানে ফিলিং স্টেশনের মিটারে জালিয়াতির মাধ্যমে অভিনব কৌশলে ৪৮ কোটি টাকার গ্যাস চুরির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান এবং ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তিতাস গ্যাস কোম্পানি এ ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শুক্রবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়।

র্যাব জানায়, রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন কুমার, মালিক জাহিদ হাসান ও মুকুল গং পরস্পর যোগসাজসে তিতাস গ্যাস কোম্পানির প্রদত্ত মিটারের অগ্রভাগে বিশেষ ছিদ্র করে লোহার সরু তার প্রবেশ করে মিটারের পাখার গতিকে শ্লথ করে দিয়ে অভিনব কৌশলে গ্যাস চুরি করে আসছিল। এভাবে প্রায় চার বছর ধরে তিতাসের গ্যাস চুরি করে বিভিন্ন পরিবহন ও কোম্পানির কাছে গ্যাস বিক্রি ও গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল তারা। রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের কয়েক মাসের বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে তারা মাসিক গড় বিল দেয় মাত্র ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু নভেম্বর মাসে শুধু সিপি বাংলা নামক একটি কোম্পানিতে সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রি করে ৭৯ লাখ টাকার। এছাড়াও ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন পরিবহনে তারা গ্যাস বিক্রি করে আসছে। এভাবে রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন মাসে কোটি টাকার বেশি গ্যাস চুরি করছে। বিগত ৪ বছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার গ্যাস চুরি করে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। এ সময় র্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন কুমারকে ২ মাস এবং ম্যানেজার মো. মানিক, কর্মচারী মো. রাসেল ও শহিদুল ইসলামকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান এবং রংধনু সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিতাস গ্যাস কোম্পানি তাদের প্রদত্ত মিটার খুলে নেয় ও ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমাম রাজী টুলু।