মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচ করতে তার বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগ বা আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের ম্যারাথন বিতর্কের পর গতকাল শুক্রবার এটি পাশ হয়। জুডিশিয়ারি কমিটি আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করায় আগামী সপ্তাহেই এর ওপর পূর্ণাঙ্গ হাউজে ভোটাভুটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই হাউজের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিশংসনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কমিটিতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলগত বিভক্তি দেখা গেছে। কমিটির রিপাবলিকান সদস্যরা এর বিরোধিতা করেছে। গত সোমবার প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংসদীয় বিচারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটির প্রধান জেরি ন্যাডলার এ বিষয়ে আইনের যে দুটি ধারা প্রকাশ করেন। তার প্রথমটিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের এবং দ্বিতীয়টিতে তার বিরুদ্ধে সংসদের কাজে বাধা দানের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে ট্রাম্প ইউক্রেইনকে দেওয়া অর্থ সাহায্য স্থগিত করেছিলেন। তবে ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন এবং তার বিচারের এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট পাশ হলে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সংসদীয় বিচার শুরু হবে। তবে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে হলে সিনেটে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার হবে। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলই সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুই জন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। তাদের একজন হচ্ছেন বিল ক্লিনটন, আরেকজন অ্যান্ড্রু জনসন। তবে তাদের কেউই সিনেটে দোষী প্রমাণিত হননি বা ক্ষমতা থেকেও সরে যেতে হয়নি। যদিও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পদত্যাগ করেছিলেন আরেকজন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন।