স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল

এইচএসসি পরীক্ষা

পপেল চন্দ্র সাহা, সহকারী অধ্যাপক

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদি

যৌথমূলধনী ব্যবসায়

 

১। ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানি তিনবছর পূর্বে গঠিত হয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মূনাফা অর্জন করতে পারেনি। পরিচালনা পর্ষদ তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো কোম্পানির ৫২% শেয়ার বিক্রি করবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানির নিকট শেয়ার বিক্রি করে এবং পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানির উপর ন্যস্ত হয়।

ক. স্মারকলিপি কী?                                                                              ১

খ. কোম্পানি কখন বোনাস শেয়ার ইস্যু করে?                                              ২

গ. বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।                                 ৩

ঘ. ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানির শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।    ৪

উত্তর-‘ক’

 স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান, যাতে কোম্পানি মূল বিষয়াদি সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা থাকে।

উত্তর-‘খ’

শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নগদে লভ্যাংশ না দিয়ে লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার বণ্টন করা হলে ঐ শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে।

কোম্পানির অজির্ত মুনাফার সম্পূর্ণাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে অংশ বিশেষ এর সংরক্ষিত তহবিলে জমা রাখা হয়। এরূপ তহবিলে সঞ্চিতির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেলে পরিচালকদের সভার সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত তহবিলের অর্থকে মূলধনে পরিণত করার লক্ষে বোনাস শেয়ার বণ্টন করা হয়ে থাকে।

উত্তর-‘গ’

বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানিটি হলো হোল্ডিং কোম্পানি।

যে কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানি অধিকাংশ শেয়ার অর্থাত্ ৫১% শেয়ারের মালিকানা লাভ করে এবং অন্য কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে তাকে হোল্ডিং কোম্পানি বলে। হোল্ডিং কোম্পানি করে ও ভোটাধিকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়।

উদ্দীপকে ও দেখা যাচ্ছে বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানি ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানিকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়ভার বহন করছে এবং ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানির ৫২% শেয়ারের মালিক হোল্ডিং কোম্পানির হাতে গেলে কমপক্ষে ৫১% শেয়ারের মালিক হতে হয় যা বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানির রয়েছে। তাছাড়া এই কোম্পানিটি ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানিকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের বনশ্রী ফার্নিচার কোম্পানি হলো হোল্ডিং কোম্পানি।

উত্তর-‘ঘ’

ড্রীম ফার্নিচার শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।

যদি কোনো কোম্পানি তার কমপক্ষে ৫২% শেয়ার বিক্রি করে দেয় বা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্য কোম্পানির হাতে থাকে তখন তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে।

উদ্দীপকে ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানি তাদের ৫২% শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হোল্ডিং কোম্পানির নিকট চলে যাবে। কোম্পানি তিন বছর ধরে মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিকে বিলোপ সাধনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ৫২% শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উদ্দীপকের ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানি ৩ বছর ধরে মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। যদি কোন কোম্পানি উর্পযুপরি লোকসানের সম্মুখীন হয় তখন ব্যবসায় টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য এবং সেই ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটতে পারে। ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানি মুনাফা লাভে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিকে বিলোপসাধনের হাত থেকে রক্ষার জন্য তার ৫২% শেয়ার বিক্রি করেছে। তাই বলা যায়, ড্রীম ফার্নিচার কোম্পানির শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।

২. স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সারা দেশ জুড়ে বিস্তৃত। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের প্রয়োজনে নিজ নামেই পরিচালিত হয় এবং অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। প্রতিষ্টানটির দুজন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ও কয়েকজন সদস্য ব্যবসায় ছেড়ে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

ক. বায়িং হাউজ কী?

খ. কোন দলিলকে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয় এবং কেন?                        ২

গ. স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির নিজ নামে পরিচিতি কোম্পানি সংগঠনের কোন বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।                                                              ৩

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি সত্বেও স্বপ্নসিড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় চালিয়ে রাখা সম্ভব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর: ক. কমিশনের ভিত্তিতে বায়ারের পক্ষে ক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বায়িং হাউজ নামে পরিচিত।

উত্তর: খ. নিবন্ধন পত্রকে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয়।

কোম্পানি আইনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে কোম্পানির উদ্যোক্তাগণ কোম্পানি নিবন্ধকের নিকট হতে নিবন্ধনের প্রমাণ হিসেবে যে সনদ প্রাপ্ত হয় তাকেই নিবন্ধনপত্র বলে। এরূপপত্র কোম্পানির আইনগত সভা নির্দেশ করে। এরূপ দলিল পাওয়ার পর আইনগত সভার জন্মলাভ ঘটায় একে কোম্পানির জন্মসনদ বলা হয়ে থাকে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এটি পাওয়ার পরই কাজ শুরু করতে পারে।

উত্তর: গ. স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির নিজ নামে পরিচিত কোম্পানি সংগঠনের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা বৈশিষ্ট্য এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ব্যক্তি না হয়ে ব্যক্তির ন্যায় অধিকার ও মর্যাদা লাভকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা বলে। কৃত্রিম ব্যক্তিসত্বার ফলে কোম্পানি নিজ নামে গঠিত ও পরিচালিত হতে পারে। তাছাড়া ও অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে এবং প্রয়োজনে মামলা ও করতে পারে।

উদ্দীপকে স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের প্রয়োজনে নিজ নামেই পরিচালিত হয় এবং অন্য কোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। যা কোম্পানি ব্যবসায়ের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্বাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়। স্বপ্নসিঁড়ি প্রতিষ্ঠানটি নিজ নামে পরিচিত কোম্পানি সংগঠনের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্বার বৈশিষ্ট্য এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।    উত্তর ঘ এর উত্তর আগামী মঙ্গলবার