সত্যজিত্ বিশ্বাস
হাঁটি হাঁটি পা পা করে নয় ‘ঠাট্টা’ যেন ছুটছে টগবগিয়ে। দেখতে দেখতে পাঁচশতম মাইল ফলকও ছুঁয়ে ফেলল। একসময় ঠাট্টা পড়তাম, তারপর লেখা শুরু করলাম পাঠক হিসেবে। তারও অনেক পরে ঠাট্টারু হয়ে ঠাট্টারুদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেলাম। কত কত স্মৃতি যে উঁকি দেয় মনে।
যখন পাঠক ছিলাম, মজার কোন কার্টুন/লেখা/ছড়া পড়ে হাসতে হাসতে ভাবতাম এই কার্টুনিস্ট/লেখক/ছড়াকাররা কারা! যারা এত সুন্দর করে আঁকতে পারে, ভাবতে পারে, লিখতে পারে? যখন পাঠক হিসেবে লিখতাম, আশায় আশায় বসে থাকতাম কবে পাঠকসংখ্যা বের হবে? সেই পাঠকসংখ্যায় আমার পাঠানো লেখা ছাপা হবে তো? বেশ কিছুদিন পরে একদিন ঠাট্টা সম্পাদকের ফোন এলো। তিনি উত্সাহ দিলেন ঠাট্টারু হয়ে নিয়মিত লেখার। তার কথায় এমনই নিয়মিত হলাম, ঠাট্টারু হওয়ার পর থেকে কোনো সংখ্যা বাদ দিইনি। কী লিখি, সেটা লেখা হয় কি না, তা জানি না, তবে নিয়মিত লেখার ব্যাপারে যদি কোনো অ্যাওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়, আমি কিন্তু শক্ত দাবিদার (হে সৃষ্টিকর্তা, ঠাট্টা সম্পাদকের চোখে যেন পড়ে এই লাইনটা)।
নতুন যারা লিখছেন, তারা হয়তো ভাবতে পারেন, পুরোনোরা ‘ভাগ্য চামচ’ নিয়েই এসেছেন, ওরা যাই লেখেন তা-ই ছাপা হয়। ব্যাপারটা কিন্তু তা না। আমাদের কত কত লেখা যে ঠাট্টা সম্পাদকের ‘কাট, ডিলেট’-এর ক্লিকে পড়ে রিসাইকেলবিনে জমা হয়, সে খবর কী কেউ রাখেন?
একটা ভালো, মানসম্পন্ন কনটেন্ট ছাপানোর জন্য সম্পাদক মুখিয়ে থাকেন। সেটা যারই হোক। মান ধরে রাখতে, মানসম্মত লেখা ছাপাতে কে না চায়, আর ঠাট্টা সম্পাদক চাইবেন না? তাই যারা হাসতে চান, হাসাতে চান, ঠাট্টা পড়ুন, ঠাট্টায় লিখুন। দিন শেষে মুখের হাসিটাই প্রাপ্তি। সবাইকে ঠাট্টার পেন্টা সেঞ্চুরি সংখ্যায় শুভেচ্ছা।